‘তহবিল ঘাটতির’ কারণে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তায় বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। সংকট মোকাবেলায় এরই মধ্যে জরুরি তহবিলের আবেদন করেছে সংস্থাটি।

জানা গেছে, এপ্রিলের ১ তারিখ থেকে মাসিক ফুড রেশনের পরিমাণ জনপ্রতি সাড়ে ১২ মার্কিন ডলার থেকে কমে ৬ ডলার হওয়ার কথা বাংলাদেশকে জানিয়েছে ডব্লিউএফপি। বর্তমানে ক্যাম্পে আশ্রিত ১০ লাখ রোহিঙ্গা ভাউচারের মাধ্যমে সেখানকার নির্ধারিত খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে পছন্দের খাবার নিতে পারছে। খাদ্যের এ জোগান বজায় রাখতে আগামী এপ্রিলের জন্য ১৫ মিলিয়ন ডলার ও চলতি বছরের বাকি অংশের জন্য ৮১ মিলিয়ন ডলারের তহবিল প্রয়োজন।

বাংলাদেশে ডব্লিউএফপির কান্ট্রি ডিরেক্টর ডমেনিকো স্কালপেল্লি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট বিশ্বের বৃহত্তম এবং দীর্ঘস্থায়ী সংকটগুলোর একটি। বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গারা বেঁচে থাকার জন্য সম্পূর্ণরূপে মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। খাদ্য সহায়তায় যেকোনো কাট-ছাঁট তাদের আরো ক্ষুধার মধ্যে ঠেলে দেবে এবং বেঁচে থাকার জন্য যেকোনো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে যেতে বাধ্য করবে।

সম্প্রতি মিয়ানমারে চলমান সংঘাতের কারণে বাংলাদেশে নতুন করে রোহিঙ্গারা আশ্রয় নিতে শুরু করেছে, যাদের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। তাদের ক্রমাগত অনুপ্রবেশ এরই মধ্যে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

সম্ভাব্য রেশন কাটছাঁট সম্পর্কে এরই মধ্যে রোহিঙ্গা নেতাদের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেছে ডব্লিউএফপি। স্কালপেল্লি বলেন, অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন আমাদের পাশে চায় রোহিঙ্গারা। এ পরিবারগুলোর আর কোথাও যাওয়ার নেই এবং ডব্লিউএফপির খাদ্য সহায়তা হলো বেঁচে থাকা ও হতাশার মধ্যে মূল পার্থক্য। এই সংকটকে আরো বাড়তে না দেয়ার জন্য জরুরি সহায়তা প্রয়োজন।

এর আগে ২০২৩ সালে তীব্র তহবিল সংকটের কারণে ডব্লিউএফপি প্রতি মাসে জনপ্রতি রেশন ১২ ডলার থেকে ৮ ডলারে নামিয়ে আনতে বাধ্য হয়। খাদ্য ঘাটতির সম্মুখীন হয় রোহিঙ্গারা। এর ফলে ২০১৭ সালের পর থেকে রোহিঙ্গা শিশুদের মধ্যে অপুষ্টির মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যায়। পরে তহবিল পাওয়ার পর রেশন বৃদ্ধি করা হয়।