রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার বাংলাদেশ হাট এলাকার জাহাঙ্গীর হোসেন। দারিদ্র্যের কারণে সপ্তম শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করেছেন তিনি। সংসারের সচ্ছলতা আনতে ভারত হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে পাড়ি জমানোর ইচ্ছে ছিল তার। তবে ২০১৬ সালে ভারতে গিয়ে বিদেশী মুরগি পালন আকৃষ্ট হন তিনি। সেখানে কিছুদিন রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। পরে চার জোড়া মুরগি নিয়ে দেশে এসে শুরু করেন খামার। এখন তার খামারে ব্রাহমা, প্যারোডা, ফাইটার, সুমাত্রা, শিল্কি, কচিং, ব্লবার্লিসহ ৯০ জাতের মুরগি রয়েছে। এ বছর তার খামারে যুক্ত হয়েছে ময়ূর।

জাহাঙ্গীরের খামার দেখতে প্রতিদিনই ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, পাবনাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসছেন খামারি ও উদ্যোক্তারা। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা বলছেন, তাকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

জাহাঙ্গীর হোসেনের খামারে বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে মুরগি রয়েছে অন্তত পাঁচ শতাধিক। বিদেশী মুরগির বাচ্চা বিক্রি হচ্ছে আড়াই থেকে ৩ হাজার টাকায়। আর জাতভেদে বড় মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৮০ হাজার টাকা জোড়া। ময়ূর বিক্রি করছেন ১ লাখ টাকা জোড়া। খরচ বাদে জাহাঙ্গীর হোসেনের মাসিক আয় অন্তত ১ লাখ টাকা।

জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘ইচ্ছা আর ধৈর্য থাকলে যেকোনো কাজেই সফলতা আসে। একসময় সংসার চালানো নিয়ে আমি চিন্তা করেছি। আর আজ আমার খামারেই রয়েছে অন্তত কোটি টাকার হাঁস, মুরগিসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি।’

জাহাঙ্গীরের বিদেশী মুরগির খামার দেখতে ও পরামর্শ নিতে দূর-দূরান্ত থেকে আসছে মানুষ। অনেকে আবার মনের খোরাক জমাতেও ভিড় করছেন তার খামারে।

দর্শনার্থী আলী আকবর হোসেন বলেন, ‘আমি সৌদিপ্রবাসী। ছয় মাসের ছুটিতে গ্রামের বাড়ি বেড়াতে এসেছি। বিদেশী মুরগির খামার দেখে ভালো লেগেছে। এক জোড়া মুরগি নিয়ে যাচ্ছি ৩০ হাজার টাকা দিয়ে। দেশে ফিরে এমন একটি খামার করারও ইচ্ছা আছে আমার।’

রাজবাড়ী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. প্রকাশ রঞ্জন বিশ্বাস বলেন, ‘জাহাঙ্গীর হোসেনকে বিভিন্ন পরামর্শ ও প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। মাঝেমধ্যেই তার খামার পরিদর্শন করা হচ্ছে। জাহাঙ্গীর হোসেনের খামারটি বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কারণ অনলাইন প্লাটফর্মে তার সুনাম আরো বেশি। এজন্য মুরগি বিক্রিতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।’