অবশেষে দুটি উপজেলার লাখো মানুষের দুর্ভোগের অবসান হতে চলেছে। সড়কের এই দুর্ভোগের বিষয়ে গত ১১ এপ্রিল দৈনিক বণিক বার্তায় সংবাদ প্রকাশের পর পুরোদমে সড়ক উন্নয়ন কাজ শুরু করেছে এলজিইডি। বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কাজিরহাট থানার মিয়ারহাট থেকে কাজিরহাট হয়ে শায়েস্তাবাদ পর্যন্ত ৪.৯ কিলোমিটার সড়ক।

তথ্য বলছে, হিজলা-বরিশাল সংযোগ সড়কটির সংস্কার কাজ ২০২৪ সালে শুরু হয়ে বন্ধ হয়ে যায়। ইটের সুরকি বিছানো সড়কে গত দুই বছর চরম দুর্ভোগে ওই সড়কে যাতায়াত করতে বাধ্য হয় দুই উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ।

কর্তৃপক্ষ বলছে, সরকার পরিবর্তন ও নির্বাচনের কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ করা সম্ভব হয়নি। একাধিকবার সময় বৃদ্ধি করা হলেও ২০২৬ সালের চলতি মাস পর্যন্ত কেবল ইটের সুরকি বিছিয়ে কাজ ফেলে রাখা হয়। ১১ এপ্রিল সড়কের এ দুর্ভোগের বিষয়টি নিয়ে দৈনিক বণিক বার্তায় সংবাদ প্রকাশ হয়। ফলে বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর। এর পরই সড়কটি পরিদর্শন করেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তাদের নির্দেশনা ও তদারকিতে ২০ এপ্রিল কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোহিনুর এন্টারপ্রাইজের অংশীদার সেলিম আহম্মেদ। সড়ক উন্নয়ন কাজের তদারকি করছেন এলজিইডির বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলী আল ইমরান।

বরিশাল এলজিইডির দপ্তর সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৩ এপ্রিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোহিনুর এন্টারপ্রাইজকে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। প্রকল্পটি তিনটি প্যাকেজে ভাগ করে বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। মূল ঠিকাদার কাজগুলো পুনরায় অন্য ঠিকাদারদের কাছে হস্তান্তর করে। প্রথম প্যাকেজে মিয়ারহাট থেকে গাবতলী হয়ে কাজিরহাট পর্যন্ত ৪ দশমিক ৯ কিলোমিটার সড়কের কাজ, যার ব্যয় প্রায় ৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। দ্বিতীয় প্যাকেজে গাবতলীবাজার হয়ে কাজিরহাট পর্যন্ত ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার সড়কের কাজ পান একই ঠিকাদার, যার ব্যয় প্রায় ৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। তৃতীয় প্যাকেজে দফাদারহাট থেকে শায়েস্তাবাদ পর্যন্ত ৪ দশমিক ৭ কিলোমিটার সড়কের কাজ ৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকায় বরাদ্দ দেওয়া হয়।

কোহিনুর এন্টারপ্রাইজের পক্ষে ঠিকাদার সেলিম আহম্মেদ বলেন, মিয়ারহাট থেকে কাজিরহাট পর্যন্ত প্রথম ধাপের কাজ চলতি সপ্তাহে শেষ হবে। আশা করি আগামী সপ্তাহে দ্বিতীয় ধাপের কাজ শুরু হবে। তবে তৃতীয় ধাপের কাজ কবে নাগাদ শুরু হবে, তার সঠিক তথ্য দিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তৃতীয় ধাপের ঠিকাদার পারভেজ চান বলেন, কাজিরহাট ব্রিজ থেকে ভাসানচর-শায়েস্তাবাদ সীমান্ত পর্যন্ত আমার কাজ শুরু হয়েছে, সড়কের দুই পাশে বালি ফেলা হয়েছে। শিগগিরই পিচ ঢালাইয়ের কাজ শুরু হবে। বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান বলেন, আশা করি জুন মাস নাগাদ কাজের গুণগত মান ঠিক রেখে পুরো সড়কের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।