গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে অটোরিকশা চুরি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে একটি আন্তঃজেলা চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া থানা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি চোরাই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, একটি হ্যান্ডকাফ ও দুটি খেলনা ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার বিকালে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মুন্সিগঞ্জের পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের শামীম সৌরভ (৩২), বরগুনার আমতলীর শাকিব ওরফে শাকিল (২৪), নারায়ণগঞ্জের বন্দরের হাবিবুর (৪০) ও মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীর কাশেম ঢালী (৫০)।

পুলিশ সুপার জানান, গতকাল বুধবার বিকালে গজারিয়া থানার চরবাউশিয়া এলাকায় অভিযান চালানোর সময় একটি অটোরিকশায় দুই ব্যক্তিকে সন্দেহজনকভাবে অবস্থান করতে দেখা যায়। পরে তাদের কাছে ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ দেখতে পেয়ে পুলিশ সদস্যরা পরিচয় জানতে চান। তারা নিজেদের পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দাবি করলেও পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা ডিবি পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করে অটোরিকশাচালকদের সঙ্গে প্রতারণার কথা স্বীকার করেন। অনলাইন থেকে ভুয়া হ্যান্ডকাফ ও খেলনা ওয়াকিটকি কিনে সেগুলো দেখিয়ে চালকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অটোরিকশা চুরি ও ছিনতাই করতেন তারা। পরে চুরি করা অটোরিকশা দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করা হতো।

পুলিশ সুপার জানান, গ্রেফতারদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চোরাই অটোরিকশা ক্রেতা মো. হাবিবুরকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে দুটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়। পরে হাবিবুরের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরো একটি চোরাই অটোরিকশাসহ মো. কাশেম ঢালীকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ সুপার আরো বলেন, চক্রটির সঙ্গে আরো কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। ভুয়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে প্রতারণা ঠেকাতে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।