বর্জ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়াটি লাভজনক ব্যবসায়িক উদ্যোগ হিসেবে গ্রহণ করা গেলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে টেকসই করা যাবে বলে মনে করেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম। আজ শনিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘প্লাস্টিক বর্জ্যের টেকসই ব্যবস্থাপনার জন্য নীতি সহায়তা’ শীর্ষক সেমিনারে একথা বলেন তিনি। সেমিনারটির আয়োজন করে এফবিসিসিআই ও ইউনিলিভার বাংলাদেশ।

মন্ত্রী বলেন, সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নিশ্চিত করতে উদ্ভাবনী এবং কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। বর্জ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়াটি লাভজনক ব্যবসায়িক উদ্যোগ হিসেবে গ্রহণ করা গেলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে টেকসই করা যাবে। এ ক্ষেত্রে সার্কুলার বা চক্রাকার প্রক্রিয়া অনুসরণ করাকে কার্যকর সমাধান হিসেবে মনে করেন তিনি।

সার্কুলার প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ভ্যালু চেইনের অংশীদারদের ক্ষমতায়ন ও অনানুষ্ঠানিক খাতকে সামগ্রিক সহযোগিতা প্রদান করার ব্যাপারে গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।

ভ্যালু চেইনে অতি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, ভাঙ্গারি ও বর্জ্য সংগ্রাহকরা রয়েছেন। এ খাত অনানুষ্ঠানিক হলেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দেন তাজুল ইসলাম। একই সঙ্গে পরিবেশ ও অর্থনীতির স্বার্থেই টেকসই প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটি উপযোগী কাঠামো তৈরির তাগিদ দেন তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি জটিল প্রক্রিয়া। এর সঙ্গে বহু অংশীজন ও খাত সম্পৃক্ত। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগে নীতি প্রণয়ন জরুরি বলেও মনে করেন পরিবেশমন্ত্রী।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ও এফবিসিসিআইয়ের প্যানেল বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ড. ইজাজ হোসাইন।

তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বিভিন্ন দেশের সফল মডেলগুলো লোকালাইজেশন বা দেশের জন্য উপযোগী করতে হবে। প্লাস্টিকের ওপর দেশের প্রায় সবাই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল, তাই যেকোনো নীতি বা আইন প্রণয়নের আগে যথাযথ গবেষণা, সমীক্ষা ও পাইলটিং করার ব্যাপারে গুরুত্ব দিতে হবে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া। আরো ছিলেন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন, ইউনিলিভারের সিইও ও এমডি জাভেদ আখতার, বিপিজিএমইএ সভাপতি শামীম আহমেদ, বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ইউ জু এলিসন এল প্রমুখ।