বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে মেঘনার শাখা নদী মাসকাটায় নাব্য সংকটে তীরে ভিড়তে পারছে না লঞ্চ। ফলে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে যাত্রীদের। লঞ্চে উঠতে হলে তাদের ভরসা ট্রলার। বছরের পর বছর এ অবস্থা বিরাজ করছে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা লঞ্চঘাটে। প্রতিদিন এ ঘাটে ৩০ সহস্রাধিক লঞ্চযাত্রীকে ট্রলারে করে লঞ্চে উঠতে হচ্ছে। ফলে যেমন বাড়ছে ঝুঁকি, তেমন বাড়ছে যাত্রা ব্যয়।
যাত্রীদের দাবি, বিআইডব্লিউটিএর স্বেচ্ছাচারিতার কারণে লঞ্চঘাট ও পন্টুন থাকার পরও তারা লঞ্চে উঠতে পারছেন না। এ কারণে প্রায়ই ঘটছে নদীতে পড়ে যাওয়াসহ ছোটখাটো দুর্ঘটনা।
এদিকে নাব্য সংকট দূর করতে বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগ এরই মধ্যে মেহেন্দিগঞ্জ লঞ্চঘাটসংলগ্ন মাসকাটা নদীতে ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু করেছে। কিন্তু বিকল্প কোনো চ্যানেল না থাকায় ঘাটে পৌঁছতে পারছে না লঞ্চগুলো। যে কারণে লঞ্চঘাট থেকে ট্রলারযোগে প্রায় ২০ মিনিটের পথ পেরিয়ে যাত্রীদের মাঝ নদীতে গিয়ে লঞ্চে উঠতে হয়।
মেহেন্দিগঞ্জ-বরিশাল রুটের উপকূল লঞ্চের মাস্টার মো. রিপন বলেন, ভোগান্তি আর বিপদের শেষ নেই। বাড়তি তেল আর ট্রলার ভাড়া গুনতে হচ্ছেই। দীর্ঘদিন ট্রলারযোগে যাত্রী পরিবহন করছি।
তিনি আরো বলেন, শীত এলেই ভাটি কিংবা মধ্য ভাটিতেই নাব্য সংকট বেড়ে যায়। তখন মাঝনদীতে লঞ্চ রেখে ট্রলারযোগে যাত্রী ওঠাতে হয়। এতে আমাদের লঞ্চ ধীরে ধীরে চালিয়ে রাখতে হয়। এতে সময়ও অপচয় হয়। আজ ১৫ বছর শীতের মৌসুমে এ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছি আমরা।
জানা গেছে, এ নৌ রুটটি বরিশাল থেকে মেহেন্দিগঞ্জের সঙ্গে চলাচলের একমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থা। এ উপজেলার চারদিকেই নদী রয়েছে। কোথাও সড়ক পথ বা ফেরি নেই। আর এ রুটটিতে প্রতিদিন ১৩-১৪টি লঞ্চে ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার যাত্রী চলাচল করে।
ভুক্তভোগী একাধিক যাত্রী বলেন, বরিশাল থেকে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিস করতে নিয়মিত মেহেন্দিগঞ্জ আসা-যাওয়া করেন। মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা থেকে বরিশালে যোগোযোগের একমাত্র মাধ্যম লঞ্চ। আমাদের বরিশালে আসা-যাওয়া করতে হয় ঝুঁকি নিয়ে। কারণ যে ট্রলারযোগে মাঝ নদীতে গিয়ে লঞ্চে উঠতে হয় সে ট্রলারগুলো তেল খরচ বাঁচানোর জন্য দু-একটি ট্রিপের মধ্যে থাকতে চায়। আর এ কারণে ধারণ ক্ষমতার বেশি যাত্রী বহন করে ট্রলারগুলো। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে যাত্রীদের উল্টো হেনস্থা হতে হয় ট্রলারচালক দ্বারা।
আরেক যাত্রী মো. হারুন জানান, ট্রলার থেকে লঞ্চে উঠতে গিয়ে নদীতে পড়ে যাওয়া এবং আহত হওয়ার ঘটনা প্রায় নিত্যদিনের। তবু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের টনক নড়ছে না।
মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুর নবী বলেন, ‘আমি দেখেছি যে উক্ত স্থানে প্রায় মাসব্যাপী ড্রেজিং চলছে। কোনো সুফল হচ্ছে না। এরপর ড্রেজিং বিভাগের প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না। কারণ ওই চ্যানেলটিতে পলিমাটির প্রবাহ খুবই বেশি। যে কারণে মাটি কাটলেও তা আবার ভরাট হয়ে যায়।’
এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএ বরিশালের বন্দর ও পরিবহন বিভাগের উপপরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা শুধু মেহেন্দিগঞ্জই নয়, আরো ৩০টি পয়েন্টে ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু করেছি। অচিরেই এ সমস্যার সমাধান হবে।










