পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে যানবাহন ও যাত্রীর চাপ অনেকটা কমেছে। অবশ্য ঈদের ছুটিতে স্বাভাবিকের চেয়ে বাড়তি চাপ থাকে দক্ষিণাঞ্চলের এ প্রবেশদ্বারটিতে। তবে এরই মধ্যে কমেছে পদ্মার পানি। কোথাও কোথাও রয়েছে ডুবোচর। দৌলতদিয়া প্রান্তে থাকা সাতটি ফেরিঘাটের মধ্যে সচল রয়েছে তিনটি। বাকি চারটি ঘাট বন্ধ রয়েছে বছরের পর বছর। সচল থাকা ঘাটগুলোর পন্টুন থেকে পানির স্তর নিচে নেমে গেছে। এতে পন্টুনের সংযোগ সড়ক মূল নদী থেকে আরো উঁচু হয়ে গেছে। এ অবস্থায় যানবাহন ওঠানামা করতে বেগ পেতে হচ্ছে। যাত্রী ও যানবাহন চালকরা বলছেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ঈদে ভোগান্তির কারণ হতে পারে এ নৌপথ।

তবে ঘাট কর্তৃপক্ষ বলছে, ঈদে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে রাজবাড়ীতে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ঘাটের পন্টুন, ফেরি বাড়ানো, পর্যাপ্ত লাইটিং, পুলিশ সদস্য মোতায়েন, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে কয়েকজন ফেরিচালক জানান, নদীর পানি কমে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে অসংখ্য ডুবোচর। তাছাড়া প্রতিটি চ্যানেল সরু হওয়ায় অনেকটা ঝুঁকি নিয়ে ফেরি পরিচালনা করতে হচ্ছে। আবার দৌলতদিয়া ৭ থেকে ৩ নম্বর ঘাট পর্যন্ত একটি চ্যানেলে ফেরি চলাচল করে। এক সঙ্গে দুটি ফেরি চলাচল সম্ভব নয়। এ কারণে দ্রুত নদী খনন করা প্রয়োজন। রাতের বেলায় ফেরিগুলো চলে আরো বেশি ঝুঁকি নিয়ে।

এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক মো. সালাহউদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বাড়ানো হবে ফেরি। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ১৭টি ফেরি ও ২২টি লঞ্চ সার্বক্ষণিক যাত্রী পারাপার করবে। নৌযানগুলো দিয়ে অনায়াসে যাত্রীদের সেবা দেয়া সম্ভব।’

সরজমিন দৌলতদিয়া ঘাট ঘুরে দেখা গেছে, দৌলতদিয়া প্রান্তে থাকা সাতটি ঘাটের মধ্যে চারটি বন্ধ রয়েছে। ঘাটগুলোর পন্টুন নদীর পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় যানবাহন ওঠানামা করতে সময় লাগছে বেশি।

কথা হয় ট্রাকচালক আনোয়ার মোল্লার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি ঢাকা থেকে একটি কোম্পানির পণ্য নিয়ে ফরিদপুর যাচ্ছিলাম। দৌলতদিয়ার সাত নম্বর ঘাটে এসে সড়ক বেশি উঁচু হওয়ায় মূল সড়কে উঠতে পানিনি। পরে স্থানীয় দুই শ্রমিককে ১ হাজার টাকা দিয়ে চাকার নিচে প্যাকিং দিয়ে সড়কে উঠেছি। এতে আমার জীবনের ঝুঁকি ও ট্রাকের ঝুঁকিও ছিল। সাত নম্বর ঘাটের সংযোগ সড়ক এখনই মেরামত করা প্রয়োজন। তা না হলে ঈদে ভোগান্তি বাড়বে।’

দৌলতদিয়ার তিন নম্বর ঘাটে গিয়ে দেখা যায় একই চিত্র। সেখানে কথা হয় ফরিদপুর থেকে ছেড়ে আসা গোল্ডেন লাইন পরিবহনের চালক শামীমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর এ রুটে যাত্রী কম আসে। তার পরও ঈদে এ নৌরুটে যাত্রীর চাপ বেড়ে যায়। ঘাট কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার কারণে ঘটছে দুর্ঘটনা। নষ্ট হচ্ছে গাড়ির যন্ত্রাংশ। এখনই ঘাটের সংযোগ সড়ক মেরামত না করলে ঈদে যাত্রী পারাপারে ভোগান্তি পোহাতে হবে।’

অবশ্য ঈদে ঘাটে থাকবে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এখানে জেলা পুলিশ, গোয়ালন্দঘাট থানা পুলিশ, নৌপুলিশ ও সাদা পোশাকে পুলিশ কাজ করবে বলে জানিয়েছেন রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার শামিমা পারভীন। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ঘাটে চাঁদাবাজি ও দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে থাকবে টহল টিমও। মানুষের নিরাপদে ঘরে ফেরা নিশ্চিত করতে পুলিশ ২৪ ঘণ্টাই ঘাটে নজর রাখবে।’

সার্বিক বিষয়ে জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ঈদে ঘরমুখো মানুষের পারাপার নির্বিঘ্ন করতে ঈদের আগে ও পরে তিনদিন করে নৌপথে ভারী যানবাহন পারাপার বন্ধ থাকবে। ঘাট এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, আনসার সদস্য মোতায়েন করা হবে। কেউ যাতে লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী বহন ও সড়কে অতিরিক্ত ভাড়া নিতে না পারে, সেজন্য কঠোর অবস্থানে থাকবে জেলা প্রশাসন। ঈদ উপলক্ষে ১৭টি ফেরি ও ২২টি লঞ্চ চলাচল করবে। এছাড়া ঘাটে চুরি-ছিনতাই বন্ধে ঘাট এলাকায় চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। থাকবে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য ও ভ্রাম্যমাণ আদালত।’