বিদ্যুৎ উৎপাদন কমায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় লোডশেডিং হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি লোডশেডিং হচ্ছে মফস্বল এলাকায়। গতকাল দেশে সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ১ হাজার ৭৭৪ মেগাওয়াট।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লোডশেডিং বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন কমে যাওয়া। কেন্দ্রগুলোয় পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না থাকায় এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় রেশনিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হচ্ছে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোকে।
বিপিডিবি সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দিনের বেলায় বিদ্যুতের চাহিদার প্রাক্কলন করা হয় ১৬ হাজার ৫৬০ মেগাওয়াট। সন্ধ্যায় (পিক আওয়ার) এ চাহিদার প্রাক্কলন ছিল ১৭ হাজার ৮৫০ মেগাওয়াট।
দেশে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি। সংস্থাটি প্রতিনিয়ত বিদ্যুতের চাহিদা, সরবরাহ ও লোডশেডিংয়ের তথ্য প্রকাশ করে।
গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহে ২৫০-৬৫০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হয়। বেলা ৩টার পর থেকে মূলত লোডশেডিং বাড়তে থাকে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (বিকাল ৫টার হিসাব অনুযায়ী) গতকাল সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয় ১ হাজার ৭৭৪ মেগাওয়াট।
রাজধানীর খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঢাকায় ওই অর্থে কখনো দেখিনি। তবে বেশ কয়েকদিন ধরে আধা ঘণ্টা বা ১ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে।’
গরমের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা সাড়ে ১৬ হাজার থেকে ১৭ হাজার মেগাওয়াটে গিয়ে দাঁড়াচ্ছে। এ চাহিদা মেটাতে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পুরোদমে চালাতে হচ্ছে। তবে বিগত তিন সপ্তাহ ধরে দেশে এলএনজি সরবরাহে ঘাটতি বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রভাব ফেলছে।
বুধবারও দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ঘাটতি তৈরি হয়। সেদিন বিশেষ করে সন্ধ্যায় বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহে অন্তত আড়াই হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হয়। এ পরিস্থিতি এড়াতে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ বিভাগসংশ্লিষ্টরা।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে বিপিডিবির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় বড় অংশ গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র থেকে আসে। এসব কেন্দ্রে পর্যাপ্ত গ্যাস না পেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায় না। বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহে ঘাটতি লোডশেডিং করে মেটাতে হচ্ছে।
দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সক্ষমতা সাড়ে ১২ হাজার মেগাওয়াট। কিন্তু উৎপাদন হচ্ছে ৫ হাজার মেগাওয়াটের কিছু বেশি। বাকি সাত হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতার বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসিয়ে রাখতে হচ্ছে।
গ্যাস বিতরণকারী কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর স্বাভাবিক উৎপাদন (বিপিডিবির চাহিদা) বজায় রাখতে দৈনিক ১ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন। সেখানে বর্তমানে সরবরাহ দেয়া হচ্ছে ৯৩০ মিলিয়ন ঘনফুটের কিছু বেশি। গ্যাসের সংকট থাকায় চাহিদা অনুসারে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না।










