সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের বেড়িগাঁও গ্রামের এক প্রসূতি নারী (২৫) করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে। তিনি বর্তমানে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে রয়েছেন। নবজাতকও তার সঙ্গে রয়েছে। শিশুটি সুস্থ রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন চিকিৎসকরা।
এদিকে ওই নারীর সংস্পর্শে আসা দুটি হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি গাইনি বিভাগের একটি ইউনিটও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, ওই নারীর স্বামী নারায়ণগঞ্জে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। সপ্তাহখানেক আগে তিনি সুনামগঞ্জে বাড়িতে আসেন। গত বুধবার ওই নারীর প্রসব বেদনা শুরু হলে তাকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেন স্বামী।
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাস জানান, প্রসব বেদনা নিয়ে হাসপাতালে এলে একজন গাইনি চিকিৎসক দেখে সিজারিয়ান অপারেশনের পরামর্শ দেন। কিন্তু রোগীর স্বজনরা নেগেটিভ গ্রুপের রক্ত জোগার করতে পারছিলেন না। অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে বৃহস্পতিবার রাতে সি-সেকশনে সুস্থ সন্তানের জন্ম দেন ওই নারী। পরদিন তার জ্বর, কাশিসহ কভিড-১৯ এর উপসর্গ দেখা দেয়। গতকাল রোববার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। আজ সোমবার রিপোর্টে করোনাভাইরাস পজেটিভ এসেছে।
তিনি বলেন, তার সান্নিধ্যে আসা গাইনি চিকিৎসক ও তিনজন নার্সকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়ছে। তাদেরও নমুনা সংগ্রহ করে সিলেট পাঠানো হয়েছে। ওই নারীর পরিবার তথ্য গোপন করায় এখন সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল ও ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তার, নার্সসহ অনেক মানুষ এখন ঝুঁকিতে রয়েছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সুরমা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুস সাত্তার বলেন, ওই নারীর স্বামী নারায়ণগঞ্জে গার্মেন্টসে কাজ করেন। তিনি এলাকায় এসেছেন সেটি আমরা জানতাম না। আজকে জেনেছি সপ্তাহখানেক আগে রাতের বেলা তিনি এলাকায় এসেছেন। আমরা তার বাড়ি লকডাউন করেছি। মানুষকে সচেতন হতে পরামর্শ দিচ্ছি। পাশাপাশি ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ থেকে এলাকায় কেউ এলে আমাদের জানানোর জন্য বলেছি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান জানান, ওই নারীর সংস্পর্শে আসা চিকিৎসক এবং অন্যদের কোয়ারেন্টিনে রাখার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আজ সকালে ওই নারীকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ থেকে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়েছে। যেহেতু তিনি ওসমানী মেডিকেলের গাইনি বিভাগে চিকিৎসাধীন ছিলেন তাই বিভাগটির সংশ্লিষ্ট একটি ইউনিট ১৪ দিনের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
নবজাতকটির ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিশুটি মায়ের সঙ্গেই রয়েছে। সুস্থ আছে। তিন দিন পর তারও নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে।










