নেই কোনো খেলার মাঠ। তার ওপর শ্রেণীকক্ষ সংকট। বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষার্থীদের শ্রেণীকক্ষের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। আরেকটি ক্লাস হলেই তারা শ্রেণীকক্ষে প্রবেশের সুযোগ পায়। কারণ মাত্র দুটি শ্রেণীকক্ষ নিয়ে চলে বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম। এ চিত্র বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গাববাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। ফলে পাঠদান ব্যাহত হওয়াসহ নানা সমস্যায় ভুগছে বিদ্যালয়টি। জাতীয়করণ হলেও সরকারি সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছে বিদ্যালয়টির শতাধিক শিক্ষার্থী।

১৯৯৩ সালে ওই এলাকার শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক মো. খায়রুল আলম নিজ উদ্যোগে ৩৩ শতক জমি ক্রয় করে টিনশেড ভবনে গড়ে তোলেন গাববাড়ী কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। শুরুতে প্রথম-তৃতীয় শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদান করা হতো এ বিদ্যালয়ে। এখন পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদান চালু থাকলেও অবকাঠামো বলতে পুরনো সেই দুই কক্ষবিশিষ্ট টিনশেড ভবন আর জাতীয়করণের পর ২০১৪ সালে পিডিবি-৩-এর আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্মাণ করা দুই কক্ষবিশিষ্ট আরো একটি ভবন। ওই ভবনের একটিতে ক্লাস রুম অপরটিতে শিক্ষকদের অফিস কক্ষ। ২০১৪ সালে নতুন ভবনটি নির্মাণের সময় টিনশেডের একটি কক্ষ ভেঙে ফেলতে হয়। এখন সব মিলিয়ে শ্রেণীকক্ষ আছে মাত্র দুটি। ফলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে শিফট করে পাঠদান করে আসছে।

শিক্ষার্থীরা জানায়, শ্রেণীকক্ষের সংকট থাকায় বিদ্যালয়ে এসে অপর ক্লাসের ছুটির অপেক্ষায় বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। ওই ক্লাসের ছুটি হলে শ্রেণীকক্ষে বসতে পারে তারা। জাতীয়করণের পর আট বছর ধরে এভাবেই চলে আসছে। তারা বলে, শ্রেণীকক্ষ সংকট তো আছেই, এর মধ্যে নেই কোনো খেলার মাঠ। আর পাশেই বাজারের একটি নর্দমা থাকায় দুর্গন্ধ শ্রেণীকক্ষে চলে আসে। ফলে শ্রেণীকক্ষে বসে পাঠগ্রহণে মনোযোগ দেয়া কষ্টসাধ্য ব্যাপার।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিমা রানী কুণ্ড বলেন, কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের পর থেকে চলে আসা সমস্যাগুলো উপজেলা শিক্ষা অফিসে বারবার অবগত করেও কোনো ফল পাচ্ছি না। এখানে চার কক্ষবিশিষ্ট একটি বিদ্যালয় ভবন, খেলার মাঠ দরকার। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের পাশে সরকারি জমি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এ জমিটি পেলে ভালো একটি খেলার মাঠ হয়। বিষয়টি উপজেলা শিক্ষা অফিসকে জানানো হয়েছে। তবে এখনো কোনো সাড়া মেলেনি।

একই কথা বলেন, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষানুরাগী-সমাজসেবক মো. খায়রুল আলম। তিনি বলেন, বিদ্যালয়টি যখন জাতীয়করণ হয়েছে, এর অবকাঠামো উন্নয়ন সরকারই করবে। আমরা দাবি জানাচ্ছি, সরকার যেন এখানে শিশুদের কথা চিন্তা করে একটি চার কক্ষবিশিষ্ট বিদ্যালয় ভবন ও একটি খেলার মাঠের ব্যবস্থা করে দেয়। এজন্য সব ধরনের সহযোগিতা ম্যানেজিং কমিটি করবে।

এ বিষয়ে আলাপকালে উজিরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাছলিমা বেগম বলেন, এখানে যোগদানের পর বৈশ্বিক মহামারী করোনায় দীর্ঘ ছুটির কারণে বিদ্যালয়টি এখনো দেখা হয়নি। শ্রেণীকক্ষ সংকট, খেলার মাঠ না থাকাসহ সমস্যাগুলো সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা কয়েকদিন আগে আমাকে বলেছেন। আমি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সমাধানে উদ্যোগ নেব।