রাজধানীর বাড্ডায় সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন ব্যাটারিচালিত রিকশা চালকরা। সড়ক থেকে লিথিয়াম ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধের দাবিতে তারা এ কর্মসূচিতে নেমেছেন। এই অটো চললে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলেও জানিয়েছেন।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বাড্ডার ফুজি টাওয়ারের সামনে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন তারা। তাদের অবরোধের কারণে কুড়িল থেকে রামপুরা সড়কে যানচলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ আছে। ফলে সকাল থেকেই মানুষজনকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ব্যাটারিচালিত রিকশা চালকদের অবরোধের কারণে যমুনা ফিউচার পার্কের থেকে মেরুল বাড্ডা পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য যানবাহন। যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়ে হেঁটে যাচ্ছেন গন্তব্যে। যাত্রীদের হেঁটে চলার লম্বা লাইন দুই পাশের সড়কে। নারী, শিশু ও বৃদ্ধ থেকে শুরু করে সব শ্রেণির মানুষকে পড়তে হয়েছে চরম ভোগান্তিতে।
আব্দুর রহিম জানান, তিনি ব্যবসায়িক কাজে গুলিস্তানে যাবেন। কুড়িল বিশ্বরোড থেকে বাসে ওঠার পর যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে এসে গাড়ি আটকে যায় অবরোধের কারণে। ফলে সেখান থেকে হেঁটে তাকে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে।
মো. রামিম নামের একজন বলেন, আমার মা গত এক সপ্তাহ ধরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে কিডনিজনিত সমস্যার কারণে ভর্তি। আমি এখন হাসপাতালে যাওয়ার কথা মাকে দেখতে ও প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা করতে। কিন্তু ২ ঘণ্টা ধরে বাসে বসেছিলাম এই রাস্তায়। গাড়ি সামনে যায় না। পরে বাধ্য হয়ে হেঁটে রওনা হয়েছি। এভাবে কেউ রাস্তা বন্ধ করে রাখে। মানুষের কত জরুরি প্রয়োজন আছে, পুলিশও দাঁড়িয়ে আছে, কিছু করছে না
বাড্ডা থানার পরিদর্শক (অপারেশন) আজহারুল ইসলাম বলেন, একটি দাবি নিয়ে ব্যাটারিচালিত রিকশার চালকরা রাস্তা অবরোধ করে রেখেছেন। তাদের রাস্তা অবরোধের কারণে এই এলাকা দিয়ে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এমনিতেই এই এলাকায় মেট্রোরেলের কাজ চলছে। আবার রাস্তা অবরোধের কারণে যানজটের ভোগান্তি আরো কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছি এবং তাদেরকে বুঝিয়ে এখান থেকে সরানোর চেষ্টা করছি বলেও জানান তিনি। আন্দোলনরত রিকশা চালকরা বলছেন, আগামী ৩০ জানুয়ারির মধ্যে তাদের দাবি মেনে লিথিয়াম ব্যাটারিচালিত রিকশা বিক্রি বন্ধ করতে হবে, না হলে তারা সিটি করপোরেশনের অফিস ঘেরাও করবেন।










