আগামী বাংলা নববর্ষের উদযাপন শুধু বাঙালির ঐতিহ্য আর সংস্কৃতিতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং তা আন্তর্জাতিক সংহতিরও মঞ্চ হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তিনি বলেছেন, বাংলা নববর্ষের চারুকলা শোভাযাত্রায় বাঙালি ছাড়াও ২৭টি জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করবেন। একইসঙ্গে, ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি গানে গানে সংহতি জানাবে ব্যান্ড দলগুলো। বুধবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান।

উপদেষ্টা বলেন, এবারের নববর্ষের শোভাযাত্রা দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে তুলে ধরবে। শোভাযাত্রার থিম হবে কৃষক, যা বাংলাদেশের কৃষি ও কৃষকদের প্রতি সম্মান জানাতে চিহ্নিত করা হবে। এটি কৃষকের অবদান ও তাদের সংগ্রামকে স্বীকৃতি প্রদান করবে।

শোভাযাত্রার নাম ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ থাকবে নাকি অন্য কোনো নামকরণ হবে, তা আগামীকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সংবাদ সম্মেলনে জানাবে। এছাড়া শোভাযাত্রার নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। তবে ভুভুজেলামুক্ত শোভাযাত্রা করার আহ্বান জানিয়েছেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা।

তিনি জানান, নববর্ষের সন্ধ্যায় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বিশেষ কনসার্টের আয়োজন করাহয়েছে। যেখানে জনপ্রিয় রকস্টার ব্যান্ড বামবা সঙ্গীত পরিবেশন করবে। এ কনসার্টে ব্যান্ড দলগুলো ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি তাদের সমর্থন ও সংহতি জানাবে "ফ্রম রিভার টু সি, প্যালেস্টাইন উইল বি ফ্রি" গান পরিবেশনের মাধ্যমে। কনসার্টের পর বাংলাদেশের বন্ধু দেশ চীনের সহযোগিতায় এক আকর্ষণীয় ড্রোন শো অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে, চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাহাড়ি ও বাংলা ব্যান্ডগুলোর অংশগ্রহণে কনসার্ট অনুষ্ঠিত হবে। পহেলা বৈশাখের সকালে ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে সুরের ধারার অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে।

ফ্যাসিবাদী শাসনের কারণে দেশে বিভাজন তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে সংস্কৃতি উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের মূল বিষয় আলোচিত বা সমালোচিত হওয়া না। মূল ফোকাস থাকবে কালচারাল হিলিংয়ে। ফ্যাসিবাদের কারণে যে বিভাজন দেখা দিয়েছে তা দূর করতে হলে কালচারাল ইনক্লুসিভনেস খুবই জরুরি। সেদিকেই আমাদের ফোকাস থাকবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বাংলা নববর্ষ ও বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব ঘিরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্যে বিজুসহ অন্যান্য উৎসব পালিত হচ্ছে।

সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য হলো বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করা এবং ঐক্য ও সহানুভূতির পরিবেশ তৈরি করা। এবারের শোভাযাত্রায় বামবা বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেবে। বিভিন্ন রক ব্যান্ডের সমন্বয়ে গঠিত এ ব্যান্ড ফিলিস্তিনের পতাকা নিয়ে "ফ্রম রিভার টু সি, প্যালেস্টাইন উইল বি ফ্রি" গান গাইবে, যা সংস্কৃতির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে সংহতির বার্তা পৌঁছে দেবে।