পদ্মার পানি কমার ফলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে নাব্য সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। ড্রেজিংয়ের পরও প্রায় এক মাস ধরে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে নৌপথে। বর্তমানে দৌলতদিয়ার সাতটি ঘাটের মধ্যে দুটি পুরোপুরি সচল। বাকি পাঁচটি ঘাটের মধ্যে ১, ২, ৫ ও ৬ নম্বর ঘাট ভাঙনের কারণে কয়েক বছর ধরে বন্ধ। শুধু ৩ ও ৪ নম্বর ঘাট সচল। এছাড়া ৭ নম্বর ঘাটের কাছে ড্রেজিং চলায় বেশির ভাগ সময় বন্ধ থাকছে।

ফেরিচালকরা বলছেন, শুধু নাব্য সংকট নয়, পানি কমে যাওয়ায় সরু হয়েছে নৌ-চ্যানেল। নৌপথে মার্কিং বাতিও নেই। এ কারণে রাতে ঝুঁকি নিয়েই চালাতে হচ্ছে ফেরি। নাব্য সংকটের কারণে দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ঘাটের বিপরীত পাশে আটকে পড়েছে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ীগামী তিনটি পণ্যবাহী জাহাজ। তবে ঘাট কর্তৃপক্ষ বলছে, নৌপথ সচল রাখার জন্য খননকাজ চলছে।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে যানবাহন পারাপার অব্যাহত রাখতে বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসি একত্রে কাজ করে। ঘাটের পন্টুন মেরামত, ঘাট এলাকায় ভাঙনরোধ, নাব্য সংকটে খননকাজ করে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। আর ফেরি পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে বিআইডব্লিউটিসি।

সরজমিনে দেখা গেছে, দৌলতদিয়ার সবচেয়ে ব্যস্ততম ৭ নম্বর ফেরিঘাট। এ ঘাট দিয়ে সবসময় বড় ফেরিগুলো লোডিং ও আনলোডিং করা হয়। দীর্ঘদিন খনন করেও ঘাটটি সচল করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। নদীর অন্যপ্রান্তে পাটুরিয়ার ৩ নম্বর ঘাটেরও একই অবস্থা।

ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীনের মাস্টার (চালক) মো. মাসুদ আকন্দ বলেন, ‘এক মাস ধরে দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ঘাটে ফেরি ভেড়াতে পারি না। নদীতে চর জেগে ওঠায় অন্তত দুই কিলোমিটার পথ ঘুরে যেতে হয়। এতে সময় লাগছে প্রায় দ্বিগুণ। শুধু নাব্য সংকট নয়, পানি কমে যাওয়ায় নৌ-চ্যানেল সরু হয়ে গেছে। রাতের বেলায় নৌপথ স্পষ্ট দেখা যায় না। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে। এখনই ব্যবস্থা না নিলে কুয়াশার কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে এ অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগে সমস্যা হবে।’

দৌলতদিয়া ঘাট হয়ে ঢাকায় ফিরছেন খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, ‘নৌপথে বর্ষায় ভাঙনের কারণে ভোগান্তি পোহাতে হয়। এছাড়া শীতে কুয়াশা আর শুষ্ক মৌসুমে থাকে নাব্য সংকট। সারা বছরই আমাদের ভোগান্তি নিয়ে যাতায়াত করতে হয়। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু হলেই ভোগান্তি লাঘব হবে।’

এদিকে ৭ নম্বর ফেরি ঘাটের বিপরীতে চর জেগে ওঠায় ভারী জাহাজ চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। গতকাল বিকালেও সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ীগামী তিনটি জাহাজ আটকে থাকতে দেখা গেছে।

চট্টগ্রাম থেকে আসা জাহাজের চালকরা জানান, প্রতি বছরই এখানে এসে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। জাহাজ চলাচলে পানির গভীরতা প্রয়োজন ১২-১৫ ড্রাফট। সেখানে পদ্মায় রয়েছে মাত্র ৮-১০ ড্রাফট। এখন ছোট জাহাজে পণ্য খালাস করে তারপর যেতে হবে। এতে পরিবহন খরচ বাড়ছে। আবার দিনের পর দিন ভোগান্তি তো আছেই।

এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. সালাহউদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে এ সমস্যা দেখা দেয়। তবে খননকাজ অব্যাহত রয়েছে। বিআইডব্লিউটিএর প্রকৌশলীরা বিষয়টি দেখভাল করছেন। নৌপথে মার্কিন বাতি দেয়ার ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএকে জানানো হবে। আশা করছি দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে। আপাতত ৩ ও ৪ নম্বর ঘাট দিয়ে যানবাহন পারাপার করানো হচ্ছে। ৭ নম্বর ঘাটে ছোট ফেরি লোড-আনলোড করা হচ্ছে। নৌরুটে বর্তমানে ১৬টি ফেরি চলাচল করছে। এ কারণে ঘাটে তেমন ভোগান্তি নেই।’