নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে কৃষি ব্যাংকের ঋণ মঞ্জুর করতে ঘুষ নেয়ার দায়ে ব্যাংকের সাবেক ফিল্ড অফিসার মো. হাফিজ উল্যা ও নিরাপত্তা প্রহরী মো. আহছান উল্যাহকে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ফিল্ড অফিসার মো. হাফিজ উল্যাহর ২০ হাজার টাকা জরিমানাও করেছে।
গতকাল দুপুরে নোয়াখালীর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক এ এন এম মোর্শেদ খান আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত মো. হাফিজ উল্যাহ বেগমগঞ্জ উপজেলার কৃষি ব্যাংক কাদিরপুর শাখার ফিল্ড অফিসার (বরখাস্তকৃত) ছিলেন। তিনি নোয়াখালী সদর উপজেলার উত্তর ফকিরপুর গ্রামের মৃত রহমত আলীর ছেলে। অন্য দণ্ডপ্রাপ্ত আহছান উল্যাহ একই ব্যাংকের নিরাপত্তা প্রহরী (বরখাস্ত) ছিলেন। তিনি বেগমগঞ্জ উপজেলার খানপুর গ্রামের মৃত ছিদ্দিক উল্যাহর ছেলে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নোয়াখালী জেলা সমন্বয় কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে মো. হাফিজ উল্যাহ বেগমগঞ্জ উপজেলার কৃষি ব্যাংক কাদিরপুর শাখার ফিল্ড অফিসার হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন কৃষি ঋণ প্রার্থী মাহফুজুর রহমান তারেকের কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ মঞ্জুর করতে ৮ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। পরে ঋণগ্রহীতা ব্যাংক কর্মকর্তাকে ঘুষের টাকা দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সাংকেতিক চিহ্ন দিয়ে প্রদান করেন। একপর্যায়ে দুদক কর্মকর্তারা হাতেনাতে টাকাসহ ওই কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেন। ঘুষের টাকা লেনদেনে সহযোগিতা করেন নিরাপত্তা প্রহরী মো. আহছান উল্যাহ। এ ঘটনায় দুদক নোয়াখালী জেলা কার্যালয়ের তত্কালীন উপপরিচালক তালেবুর রহমান তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের একাধিক ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করে। গতকাল শুনানি শেষে আসামিদের উপস্থিতিতে আদালত বিভিন্ন ধারায় হাফিজকে মোট আড়াই বছর ও আহছান উল্যাহকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন।
জেলা দুদকের পিপি অ্যাডভোকেট আবুল কাশেম রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুটি ধারায় ব্যাংকের বরখাস্তকৃত ফিল্ড অফিসারকে একটি ধারায় এক বছর, অন্য এক ধারায় দেড় বছর এবং ঘুষ লেনদেনে সহযোগিতার অপরাধে ব্যাংকের বরখাস্তকৃত নিরাপত্তা প্রহরীকে দুটি ধারায় ছয় মাস করে মোট এক বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে ফিল্ড অফিসার দেড় বছর ও নিরাপত্তা প্রহরী সর্বোচ্চ ছয় মাস হাজত বাস করবেন।










