পরিবেশ মন্ত্রণালয় বলে একটা মন্ত্রণালয় আছে, সেটা টেরই পাওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেছেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেন, ‘আগের সরকারের মতোই জনস্বার্থ, পরিবেশ, প্রাণ-প্রকৃতিকে অগ্রাহ্য করার বিপজ্জনক প্রবণতা গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত বিএনপি সরকারের মধ্যে দেখা যাচ্ছে।’ গত সাত মাসে সরকারের কথাবার্তা ও কর্মকাণ্ডে এ প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

গতকাল ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে ‘অপরিকল্পিত উন্নয়নে বিপন্ন কক্সবাজার: পরিবেশবাদীদের উদ্বেগ’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ। কক্সবাজারে সৈকতের বালিয়াড়িতে সড়ক নির্মাণ, দেশের একমাত্র পাহাড়ি বনসমৃদ্ধ দ্বীপ মহেশখালীতে সংরক্ষিত বনের ভেতরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের সড়ক নিয়ে যাওয়া ও সোনাদিয়া দ্বীপে নির্বিচারে প্যারাবন ধ্বংস করে চিংড়ি ঘের নির্মাণের পরিপ্রেক্ষিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ। উষ্ণতা বাড়ছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। লবণাক্ততা ছড়িয়ে পড়বে। জনবসতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এসব থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় হচ্ছে, উপকূলজুড়ে এমন ব্যবস্থা করা যাতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়লেও সেটার ক্ষতিটা যেন কম রাখা যায়। কিন্তু দেখা যাচ্ছে উপকূলজুড়ে সেটা সুন্দরবন থেকে শুরু করে কক্সবাজারে এমন সব উন্নয়ন প্রকল্প নেয়া হচ্ছে যাতে উপকূলের যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’

সংবাদ সম্মেলনে বাপার সহসভাপতি জাকির হোসেন মূল প্রবন্ধে কক্সবাজারের প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা কীভাবে অপরিকল্পিত উন্নয়নে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেটার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

বাপার কক্সবাজার জেলার সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম বলেন, ‘গুটিকয়েক মানুষের স্বার্থে প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকায় সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। সমুদ্রের জায়গা দখল করে প্লট বাণিজ্যের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। বালিয়াড়ি সৈকতের সুরক্ষাকবচ। এটি নষ্ট হলে সামুদ্রিক প্রতিবেশ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

বাপার সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের ২০ মিনিটের ভাষণের মধ্যে ১০ মিনিট কথা বলেছেন পরিবেশ ও জলবায়ু নিয়ে। অথচ তার নির্দেশ অমান্য করে চলছে পরিবেশ বিধ্বংসী আয়োজন। যেখানে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মেরিন ড্রাইভের তিন হাজার গাছ রক্ষা পায়, সেখানে বনের ভেতরে গাছ ও পাহাড় কাটার আয়োজন কীভাবে হয়।’