সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) বর্ধিত ১৫টি ওয়ার্ডে এখনো বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুযোগ সৃষ্টি হয়নি। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও সড়কের পাশেই ফেলা হচ্ছে গৃহস্থালির বর্জ্য। নগরীর মধ্য দিয়ে যাওয়া সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের মদীনা মার্কেট আখালিয়া তেমনি একটি এলাকা। গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার একাধিক স্থানে প্রতিদিন সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকার ময়লা নিয়ে আসা ভ্যান রাখা হয়। ময়লাভর্তি এসব ভ্যান থেকে ছড়াতে থাকে দুর্গন্ধ। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পরিবহনের যাত্রী, পথচারীসহ পাশের হাসপাতালে আসা লোকজনকে। মদীনা মার্কেট আখালিয়া ছাড়াও নগরীর বেশকিছু এলাকায় এমন দৃশ্য চোখে পড়ে।
পরিবেশবাদী সংগঠন ভূমি সন্তান বাংলাদেশের সংগঠক শুয়াইব হাসান বলেন, ‘সিসিকের আগের ২৭টি ওয়ার্ড মোটামুটি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আওতায় থাকলেও বর্ধিত এলাকায় এখনো বেহাল দশা। বিশেষ করে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আখালিয়া এলাকার অবস্থা খুব খারাপ। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীদের বিপাকে পড়তে হয়। বিষয়টি সমাধানে সিটি করপোরেশনকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।’
যদিও সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক ও পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা হানিফুর রহমান দাবি করেন, সিটির বর্জ্য অপসারণ করে প্রতি রাতেই পরিষ্কার করা হয়। কয়েকটি ওয়ার্ডে নির্দিষ্ট জায়গার অভাবে রাস্তার পাশে ভ্যানগুলো রাখতে হয়। তবে নির্দিষ্ট জায়গার ব্যবস্থা হলে এ সমস্যার সমাধান হবে। বর্জ্য ফেলার ক্ষেত্রে নাগরিকদেরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
আখালিয়া মাউন্ড এডোরা হাসপাতালে রোগী দেখাতে আসা আব্দুল আলিম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘হাসপাতালের সামনে সকাল থেকে ভ্যানের ওপর ময়লা পড়ে থাকে। নাক চেপে চলাচল করতে হয়।’
অন্যদিকে খাসদবীর পয়েন্টে প্রতিদিন সকাল থেকে সিটির একটি খোলা ট্রাক থাকে। এখানে মানুষ ময়লা-আবর্জনা ফেলে। অনেকে ট্রাকে ফেলতে গিয়ে রাস্তায় ফেলে যায়। আব্দুর রহিম নামের এক দোকানি বলেন, ‘দুর্গন্ধে এখানে বসে ব্যবসা করাই দায়।’
নবগঠিত ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের বৃহত্তর বাজার টুকেরবাজার। ওই এলাকার দোকানি আব্দুর রহমান বলেন, ‘আবর্জনা জমলে দিনের কোনো একসময় এসে সিটি করপোরেশনের গাড়ি এসে তা নিয়ে যায়। তবে যদি গাড়ি আসতে দেরি হয় তাহলে সারা দিনই ময়লা জমে থাকে।’
বর্ধিত এলাকা ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের খাদিমপাড়ার শাহপরান মাজারসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এখন সিটি করপোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করতে হয়। ট্যাক্স নেয়া শুরু করেছে অথচ উন্নয়নের খবর নেই। নাগরিক কোনো সুবিধা আমরা এখনো পাইনি। শাহপরান এলাকার ময়লা-আবর্জনা সিসিকের গাড়ি নিয়ে গেলেও মহল্লার অবস্থা খারাপ। যত্রতত্র ময়লা ফেলা হচ্ছে। এতে ড্রেনেজ ব্যবস্থাও নষ্ট হচ্ছে।’
দক্ষিণ সুরমার নবগঠিত ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের গাংগু এলাকার বাসিন্দা সুলেমান মিয়া জানান, তাদের এলাকায় বর্জ্য ফেলার জায়গা নেই।
৩২ নম্বর ওয়ার্ডের ভাটপাড়ার বাসিন্দা সুমন মিয়া বলেন, ‘নির্বাচন শেষ হয়েছে এখনো যেন গতি ফিরছে না। আমরা আগের মতোই রয়ে গেছি। পাশের খাল-বিলেই ময়লা ফেলছে নাগরিকরা।’
স্বাস্থ্যঝুঁকি প্রসঙ্গে সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক বক্ষব্যাধি মেডিসিন বিশেষজ্ঞ মো. মনোয়ারুল ইসলাম ভূঁইয়া বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বর্জ্যের দূষণ থেকে শ্বাসকষ্ট, পেটের পীড়া, চর্মরোগ, ডায়রিয়া, এমনকি লিভার ও কিডনি রোগ হতে পারে। এতে মৃত্যুঝুঁকিও রয়েছে।’
সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের মদীনা মার্কেট আখালিয়া এলাকার যে অংশে দিনে ময়লা ফেলা হচ্ছে সেই এলাকাটি সিলেট সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডভুক্ত। সেই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. ইলিয়াছুর রহমান বলেন, ‘এ ওয়ার্ডে সিটি করপোরেশনের নির্দিষ্ট কোনো জায়গা না থাকায় আখালিয়া পয়েন্ট ও পাঠানটুলা এলাকায় কিছু সময়ের জন্য ময়লার ভ্যানগুলো রাখতে হয়। জায়গা খোঁজা হচ্ছে, একটা সময় এ সমস্যা আর থাকবে না।’
সিলেট সিটি করপোরেশনের বিদায়ী মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জানান, ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের ডিপিপি (ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল) প্রণয়ন করে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছিল। প্রকল্পটি এখনো অনুমোদনের অপেক্ষায়। প্রকল্পটি পাস হলেই বর্ধিত এলাকার জনগণ সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রকৃত সুফল পাবে। এ প্রকল্পে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ সৌন্দর্যবর্ধন ও পানি নিষ্কাশনসহ সব ধরনের প্রস্তাবনা রয়েছে। বাকিটা নবনির্বাচিত মেয়রের আন্তরিকতার ওপর নির্ভর করছে।










