বাংলাদেশ পরিসংখ্যান বুর‍্যোর (বিবিএস) মহাপরিচালক ও উপমহাপরিচালক হতে পারছেন না পরিসংখ্যার ক্যাডারের কর্মকর্তারা। নিয়োগ বিধিতে থাকলেও পদগুলো থেকে তাদেরকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এমন অভিযোগ তুলে তাৎক্ষণিকভাবে এসব পদে পরিসংখ্যান কর্মকর্তাদের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়াসহ ১৪ দফা সংস্কার দাবি জানিয়েছে পরিসংখ্যান ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশন।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) দুপুরে আগারগাঁওয়ে বিবিএসের প্রধান কার্যালয়ে এক সভায় এসব দাবি জানান পরিসংখ্যান ক্যাডারের কর্মকর্তারা। এতে আন্তঃক্যাডার বৈষম্যবিরোধী নিরসন পরিষেদের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।



পরিসংখ্যান ক্যাডারদের দাবি— বর্তমানে পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মকর্তাদের জরুরি ভিত্তিতে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দিতে হবে। সকল ক্যাডারের ব্যাচভিত্তিক পদোন্নতি নিশ্চিত করতে হবে (অন্তত ৩য় গ্রেড পর্যন্ত)। ক্যাডার যার মন্ত্রণালয় তারই হবে। কোটামুক্ত ডিএস পুল অর্থাৎ ৭৫ শতাংশ ও ২৫ শতাংশের মত অন্যায্য এবং রাষ্ট্রের কল্যাণ পরিপন্থী কোটা বাতিল করে মেধা তালিকার ভিত্তিতে বা সুপিরিয়র সার্ভিস পুলের মাধ্যমে পদোন্নতি নিশ্চিত করতে হবে।

এছাড়া স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদসমূহে সরকারি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব প্রদানের যত বিধি রয়েছে, প্রায় সকল ক্ষেত্রে শুধু একটি নির্দিষ্ট ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বিবেচনা করা হয়ে থাকে। বৈষম্যের এ নীতি বন্ধ করারও দাবি তোলেন তারা। বিসিএস (পরিসংখ্যান) ক্যাডারের পদসোপান সুবিন্যস্তকরণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন গ্রেডে নতুন পদ সৃষ্টি এবং প্রস্তাবিত প্রশিক্ষণ অ্যাকাডেমির সকল পদ বিসিএস (পরিসংখ্যান) ক্যাডার এর পদ হিসেবে সৃষ্টির দাবিও রয়েছে তাদের।

জেলা পরিসংখ্যান অফিসসমূহকে যুগোপযোগী এবং অধিকতর কার্যকর করতে প্রতিটি জেলা পরিসংখ্যান অফিসে অবিলম্বে পরিসংখ্যান ক্যাডারের একটি করে পরিসংখ্যান কর্মকর্তা পদ সৃষ্টি এবং যে সব পদ ক্যাডার সিডিউলভুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে, সে সকল পদ দ্রুত ক্যাডার সিডিউলভুক্তির দাবি তাদের।

উপমহাপরিচালক, পরিচালক ও যুগ্মপরিচালকের স্থায়ীভাবে সৃষ্ট পদসমূহে অনতিবিলম্বে পরিসংখ্যান ক্যাডারের কর্মকর্তাগণকে পদোন্নতি দিতে হবে এবং সিডিউলে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। বিবিএসর সাংগঠনিক কাঠামো যুগোপযোগী করতে হবে। আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসনের জন্য বৈষম্য সৃষ্টিকারী ক্যাডারের কর্মকর্তাগণকে দায়িত্ব প্রদান না করারও দাবি তাদের।

সভায় পরিসংখ্যান ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশেনের সভাপতি রফিকুল ইসলামসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন। তারা বঞ্চনার কথা তুলে ধরে বলেন, ২২তম ব্যাচের একজন উপমহাপরিচলকের মাধ্যমে বিবিএস পরিচালিক হচ্ছে। যেখানে ১৮ তম ব্যাচের ৩ জন পরিচালক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। অর্থাৎ পরিসংখ্যান ক্যাডারদের বঞ্চিত করে অন্য ক্যাডারদের বিবিএসে নিযুক্ত করা হচ্ছে। এসব বৈষম্যের অবসান করতে হবে।

কেউ কেউ ১০ বছর ধরে একই পদে কর্তরত রয়েছেন বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন কর্মকর্তারা।