চট্টগ্রামের এনএম খান হিলে গড়ে উঠছে বিভিন্ন আবাসিক স্থাপনা। অনিয়ন্ত্রিত ও অনুমোদন ছাড়াই আবাসিক স্থাপনা নির্মাণ এবং ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে পাহাড় ধসের ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে মৎস্য অধিদপ্তর ও মৎস্য প্রক্রিয়াকরণ অধিদপ্তর কার্যালয়। এছাড়া ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন স্থাপনাও।
পূর্ব পাকিস্তানের বিখ্যাত ২২ পরিবারের এক পরিবারের প্রধান ছিলেন নিয়াজ মোর্শেদ খান। তিনি বসবাস করতেন এ পাহাড়ে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর নিয়াজ মোর্শেদ খানসহ এখানে বসবাসকারীরা পাকিস্তানে চলে যান। পরবর্তী সময়ে নিয়াজ মোর্শেদ খানের নামেই এনএম খান হিল হিসেবে পরিচিতি পায় পাহাড়টি। নিয়াজ মোর্শেদ খানের ফেলে যাওয়া স্থাপনাগুলো বাংলাদেশ সরকার অধিগ্রহণ করে। বর্তমানে সেই ভবনগুলোয় মৎস্য অধিদপ্তর ও মৎস্য প্রক্রিয়াকরণ অধিদপ্তর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পাহাড়ের ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমিতে অনুমোদন ছাড়াই ভবন নির্মাণের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে সরকারি দুটি গুরুত্বপূর্ণ অফিসের স্থাপনা।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শ্রীবাস চন্দ্র চন্দ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এনএম খান হিল একটি ঐতিহাসিক পাহাড়। সম্প্রতি পাহাড়টিতে আবাসনের বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বেশ কয়েকটি সংস্থা। নির্মাণ উপকরণ পরিবহনে পাহাড়ি সড়ক দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করায় পাহাড়ের বেশকিছু অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন ঠেকাতে কাঠের গুঁড়ি দিয়ে প্রতিরোধ দেয়াল তুলে দেয়া হয়েছে। সড়কটির পাশের এলাকা দ্রুত সংস্কার এবং আবাসন প্রকল্পের কাজ সীমিত না করলে মৎস্য ভবনসহ অন্যান্য স্থাপনাও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।’
পাহাড়ের গাছ কেটে ফেলার বিষয়ে জানতে চাইলে পাহাড়টির মালিক নুরুন নাহার বেগম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত পাহাড়, আমি সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করব না গাছ কাটব সেটা আমার ব্যক্তিগত বিষয়। পাহাড়ের ওপর জমিতে গাছ তেমন ছিল না। আমরা সেখানে কিছু করতে গেলে আইন অনুযায়ী কাজ করব। আমার কাজের জন্য তো পাশের পাহাড়ের কোনো ক্ষতি হয়নি।’
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী পাহাড়ে অনুমোদনহীন স্থাপনা নির্মাণ, গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় পরিবেশ অধিদপ্তরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপপরিচালক (মেট্রো) মিয়া মাহমুদুল হক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এনএম খান হিল এলাকায় পাহাড় কাটা বা সেখানে আবাসন তৈরি হচ্ছে এমন কিছুর জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরে কেউ আবেদন করেছে বলে আমার জানা নেই। পাহাড়ের ওপর গাছ কাটার বিষয়টি বন বিভাগের অন্তর্গত। তবে ব্যক্তিমালিকানাধীন পাহাড় কাটতে হলে বা স্থাপনা নির্মাণ করতে হলে অবশ্যই পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে অনুমোদন নিতে হবে। আমাদের দেয়া ছাড়পত্র ছাড়া পাহাড় কাটা বা স্থাপনা নির্মাণ করা যায় না। এ বিষয়ে আমরা সরজমিন অনুসন্ধান করে পাহাড় কাটা ও পরিবেশ ধ্বংসের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’










