সবুজে আচ্ছাদিত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসে সারা বছরই থাকে পাখির আনাগোনা। তবে শীত এলে দৃশ্যটা অন্য রকম হয়ে ওঠে। স্থানীয় পাখির পাশাপাশি হাজির হয় পরিযায়ী পাখি। নভেম্বরের শুরু থেকেই রাবিতে আসছে ঝাঁকে ঝাঁকে পরিযায়ী পাখি। পাখির কলতানে ক্যাম্পাসজুড়ে যেন রঙিন পাখিমেলা—দেখলে মনে হবে প্রকৃতি নিজেই সাজিয়েছে এক চঞ্চল, প্রাণবন্ত উৎসব।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুই ধরনের পরিযায়ী পাখি দেখা যায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। এক ধরনের পাখি থাকে ডাঙায় বা ডালে; আরেকটি পানিতে। তবে রাবির জলাশয়গুলোতে আসা বেশির ভাগ পাখিই হাঁস-জাতীয়। এর মধ্যে বেশিসংখ্যক পাখিই ছোট সরালি। আর বাকিগুলোর মধ্যে রয়েছে বড় সরালি, ল্যাঞ্জা হাঁস, খুঁতে হাঁস, ঝুঁটি হাঁস ইত্যাদি। কয়েক বছর ধরে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে আসছে পেরিগ্রিন ফ্যালকন নামের আরেক পাখি। তারা প্রায় পাঁচ মাস ক্যাম্পাসে থাকে।
সরজমিনে দেখা গেছে, রাবির খালেদা জিয়া, তাপসী রাবেয়া, রহমতুন্নেছা ও রোকেয়া হলের পেছনের পুকুর, শামসুজ্জোহা হলের পাশের জলাশয়সহ বিভিন্ন স্থানে জমেছে পরিযায়ী পাখির মেলা। আকাশজুড়ে পাখিরা উড়ে বেড়াচ্ছে, কলকাকলিতে মেতে উঠছে। এ দৃশ্য উপভোগ করতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীরা প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছেন।
পাখি বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রতি বছর শীত মৌসুমে হিমালয়ের উত্তরে প্রচণ্ড শীত নামতে শুরু করে। ফলে উত্তরের শীতপ্রধান অঞ্চল সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, চীন, নেপাল ও ভারতে প্রচুর তুষারপাত হয়। শীতের তীব্রতা সইতে না পেরে পাখিরা উষ্ণতার খোঁজে পাড়ি জমায় বিভিন্ন নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে। এ সময় হাজার হাজার পরিযায়ী পাখি ঝাঁক বেঁধে উড়ে আসে দক্ষিণ এশিয়ার নাতিশীতোষ্ণ দেশ বাংলাদেশেও। দেশের যেসব এলাকায় এসব পাখি আসে তার মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের উঁচু গাছপালা, বিভিন্ন স্থানে উন্মুক্ত জলাশয় ও পর্যাপ্ত খাদ্য থাকায় প্রতি বছর শীত মৌসুমে পরিযায়ী পাখি এ ক্যাম্পাসকে বেছে নেয় বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান।
তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘প্রতি বছর এদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। এবারো ক্যাম্পাসের রোকেয়া হলের পুকুরসহ বিভিন্ন জলাশয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখির দেখা মিলছে। নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্র হওয়ায় তারা এখানে বাসাও বাঁধে। পরিযায়ী পাখিরা কখনো দিক ভুল করে না। যেখান থেকে তারা আসে ঠিক সেখানেই আবার ফিরে যায়। এক্ষেত্রে তারা পাহাড়-পর্বতকে দিকনির্দেশনা হিসেবে মনে রাখে।’
পাখি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করা প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আমিনুজ্জামান মো. সালেহ্ রেজা বলেন, ‘নভেম্বরের শেষ দিকে পাখিগুলো এখানে আসে। আগের বছরের চেয়ে এবার পাখির সংখ্যা বেশি।’
তবে তার অভিযোগ, অনেকেই ঢিল ছুড়ে উড়ন্ত পাখির ছবি তুলছে। এতে পাখিরা বিরক্ত হচ্ছে। পাখিদের অভয়ারণ্য না দিতে পারলে তারা আর আসবে না।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ক্যাম্পাসে পাখি মারা নিষেধ। পাখিদের কোনো ধরনের ভয়-ভীতি দেখানো হয় না। পরিযায়ী পাখির অবাধ বিচরণে যেন কোনো বিঘ্ন না ঘটে সেজন্য তৎপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।’










