যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক ফ্লিটের কমান্ডার অ্যাডমিরাল স্টিভ কেলার আগামী ৪ থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত তিন দিনের সরকারি সফরে বাংলাদেশে আসছেন। সফরকালে তিনি বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকে দীর্ঘদিনের যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা, মানবিক সহায়তা, দুর্যোগ মোকাবেলা ও পেশাগত সামরিক শিক্ষায় সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হবে।

আজ সোমবার ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র মারা বার্ডের পক্ষ থেকে দেয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, অ্যাডমিরাল স্টিভ কেলারের সফরে দুদেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরো জোরদার করার সুযোগ নিয়ে আলোচনা হবে। বিশেষ করে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, মানবিক সহায়তা কার্যক্রম, দুর্যোগ মোকাবেলা সক্ষমতা এবং সামরিক প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার ক্ষেত্রে সহযোগিতার সম্ভাবনা গুরুত্ব পাবে।

যুক্তরাষ্ট্র নেভির ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, অ্যাডমিরাল স্টিভ কেলার যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনীর একজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তা। তিনি ২০২৪ সালের ৪ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র প্যাসিফিক ফ্লিটের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব নেন। এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডে (ইউএস ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড) অপারেশনস পরিচালক, যুক্তরাষ্ট্র প্যাসিফিক ফ্লিটের ডেপুটি কমান্ডার এবং যুক্তরাষ্ট্র থার্ড ফ্লিটের কমান্ডারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

কেলার ১৯৮৬ সালে ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো অ্যাট বোল্ডার থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে নৌবাহিনীর নেভাল রিজার্ভ অফিসার ট্রেনিং কোর (এনআরওটিসি) কর্মসূচির মাধ্যমে কমিশন লাভ করেন। ১৯৮৯ সালে তিনি নৌবাহিনীর বিমানচালক হিসেবে দায়িত্ব পান। এফ-১৪ টমক্যাট ও এফ-১৮ সুপার হর্নেট যুদ্ধবিমানে তিনি ৩ হাজার ৯০০ ঘণ্টার বেশি উড্ডয়ন করেছেন এবং বিমানবাহী রণতরিতে ৬০০টির বেশি অবতরণ সম্পন্ন করেছেন।

তিনি ইউএস নেভাল ওয়ার কলেজ থেকে ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক অভিযানে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য, বসনিয়া-হার্জেগোভিনা, লিবিয়া, হাইতি এবং পূর্ব ও দক্ষিণ চীন সাগরে পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রমে তার অংশগ্রহণ রয়েছে।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাড়ছে। দুদেশের মধ্যে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা উন্নয়নের মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা রয়েছে। অ্যাডমিরাল কেলারের ঢাকা সফরকে এ সহযোগিতা আরো বিস্তৃত করার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।