ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনায় ছয়টি সংসদীয় আসনে ৩৮ প্রার্থী অংশ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে ১২ প্রার্থী ছাড়া বাকি সবাই জামানত টিকিয়ে রাখার মতো ভোট পাননি, যা মোট প্রার্থীর ৪৬ শতাংশ। নির্বাচন কমিশনের পরিপত্র অনুযায়ী, মোট সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় প্রদত্ত ভোটের ৮ ভাগের ১ ভাগ পেলে সেই প্রার্থীর জামানত রক্ষা হবে। কিন্তু ২৬ প্রার্থীর কেউই প্রদত্ত ভোটের ৮ ভাগের ১ ভোট পাননি।

ভোট গণনা শেষে বৃহস্পতিবার রাতে জেলা প্রশাসক ও খুলনা ১, ২, ৪, ৫ ও ৬ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আ স ম জামসেদ খোন্দকার ও খুলনা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়সল কাদের পৃথকভাবে বেসরকারি এ ফলাফল ঘোষণা করেন।

ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, খুলনা-১ আসনে ১২০টি কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭ হাজার ১০৩ জন। এর মধ্যে ভোট পড়েছে ২ লাখ ১০ হাজার ৮৯৯। এ আসনে জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ২৬ হাজার ৩৬২ ভোট। আসনটিতে বিএনপির আমির এজাজ খান ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ২১ হাজার ৩৫২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর কৃষ্ণনন্দী দাঁড়িপাল্লায় পেয়েছেন ৭০ হাজার ৩৪৬ ভোট।

এছাড়া ইসলামী আন্দোলনের আবু সাইদ পেয়েছেন ৫ হাজার ৬১৯ ভোট, জাতীয় পার্টির জাহাঙ্গীর হোসেন পেয়েছেন ৬৩০ ভোট, ইসলামী ফ্রন্টের সুনীল শুভ রায় পেয়েছেন ৮৮১, সিপিবির কিশোর কুমার রায় ৪ হাজার ৭৪২, গোবিন্দ হালদার ৮৯৪, গণঅধিকার পরিষদের জিএম রোকনুজ্জামান ৮৪, বিএমজেপির প্রবীর গোপাল রায় ৫৬৭, জেএসডির প্রসেনজিৎ দত্ত ৫১৩, স্বতন্ত্র প্রার্থী অচিন্ত কুমার ৭১০ ও সুব্রত মণ্ডল পেয়েছেন ১৬৯ ভোট। তাদের কেউই ৮ ভাগের ১ ভাগ ভোট পাননি।

খুলনা-২ আসনে ৩ লাখ ৩৫ হাজার ২৪৩ ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৮৪ জন। আসনটিতে প্রদত্ত মোট ভোটের ৮ ভাগের ১ ভাগে আসে ২৩ হাজার ৬৬০টি। বেসরকারি ফরাফলে জামায়াতে ইসলামীর শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল পেয়েছেন ৯৩ হাজার ৭৮৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু পেয়েছেন ৮৮ হাজার ১৯৭ ভোট পান। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমানুল্লাহ পেয়েছেন ৭ হাজার ২৯৮ ভোট, যা জামানত রক্ষায় যথেষ্ট নয়।

খুলনা-৩ আসনের ১১৬ কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ২৪৫। মোট ভোটার ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪০৯। ভোট প্রদানের হার ৫৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ। জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ১৯ হাজার ৩০ ভোট। এ আসনে বিএনপির রকিবুল ইসলাম বকুল ৭৪ হাজার ৮৪৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান পেয়েছেন ৬৬ হাজার ১০ ভোট।

এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবদুল আউয়াল পেয়েছেন ৫ হাজার ৭০৫ ভোট, জাতীয় পার্টির আব্দুল্লাহ আল মামুন ১ হাজার ৭০, স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফুর রহমান মিঠু ৮৩৭, বাসদের জনার্দন দত্ত ২৪৬, মইন মোহাম্মদ মায়াজ ৯৮, আবুল হাসনাত সিদ্দিক ৬৮, মুরাদ খান লিটন ৮৩ ও এনডিএমের শেখ আরমান হোসেন পেয়েছেন ১৪১ ভোট। তাদের কেউই প্রদত্ত ভোটের ৮ ভাগের ১ ভাগ পাননি।

খুলনা-৪ আসনে ১৪৫ কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৮ হাজার ৪৫৩। ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ৪৬ হাজার ৮১৬ জন। আসনটিতে জামানত রক্ষায় ভোট প্রয়োজন ৩০ হাজার ৮৫২। বিএনপির এসকে আজিজুল বারী হেলাল ১ লাখ ২৩ হাজার ১৬২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফত আন্দোলনের মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৫৩০ ভোট। তবে প্রদত্ত ভোটের ৮ ভাগের ১ ভাগও ভোট পাননি ইসলামী আন্দোলনের ইউনুস আহমেদ শেখ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এসএম আজমল হোসেন।

খুলনা-৫ আসনে ১৫১ কেন্দ্রে ভোটার ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৭০৩ জন। তাদের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ৯৮ হাজার ২০৯ জন। এ আসনে জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ৩৭ হাজার ২৭৬ ভোট। বিএনপির আলী আজগর লবী ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মিয়া গোলাম পরওয়ার পেয়েছেন ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৬ ভোট। তবে জামানত রক্ষায় প্রয়োজনীয় ভোট পাননি লাঙ্গল প্রতীকের শামীম আরা পারভিন ও কাস্তে প্রতীকের চিত্তরঞ্জন গোলদার।

খুলনা-৬ আসনে ১৫৬ কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ২ লাখ ৮৮ হাজার ১৯১। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ২৩ হাজার ৩৩২। জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ৩৬ হাজার ২৩ ভোট। জামায়াতের আবুল কালাম আজাদ ১ লাখ ৫০ হাজার ৭২৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এসএম মনিরুল ইসলাম বাপ্পী পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৭১০ ভোট। তবে জামানত রক্ষার করার মতো প্রয়োজনীয় ভোট পাননি সিপিবির প্রশান্ত কুমার মণ্ডল, ইসলামী আন্দোলনের আসাদুল্লাহ ফকির ও জাতীয় পার্টির মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর।