গত কয়েক বছরে ভাঙনে নদীতে বিলীন হয়েছে কয়েকশ একর ফসলি জমি। ভেঙেছে সরকারি স্থাপনা, গ্রামের বসতভিটা আর ঘরবাড়ি।
স্থানীয়রা জানান, মেঘনার প্রায় সাত কিলোমিটারজুড়ে ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছেন বাসিন্দারা। প্রতি বছর নদীভাঙনে ওই এলাকার ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা বিলীন হয়। দ্রুত ভাঙনরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নিতে না পারলে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে উপজেলার ইউনিয়ন দুটির উত্তর উলানিয়া ইউনিয়নের ধুলখোলা, বালিয়া, হাসানপুর, উলানিয়া ও পালপাড়া থেকে দক্ষিণ উলানিয়ার আশা গ্রাম, পূর্ব সুলতানী, পশ্চিম সুলতানী ও যাদুয়া গ্রামগুলো। এর আগেও নদীভাঙনে ওই এলাকার বিভিন্ন গ্রাম বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন তারা।
ধুলখোলার বাসিন্দা ইউসুফ আলী সৈকত বলেন, ‘প্রতি বছর বর্ষা এলেই আমাদের দুঃস্বপ্ন শুরু হয়। রাত জেগে পাহারা দিতে হয় কখন নদী ঘর গিলে ফেলে। আমরা আর কতদিন এভাবে থাকব। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো এলাকা নদীতে চলে যাবে।’ একই এলাকার গৃহবধূ রহিমা বেগম জানান, আমাদের একাধিকবার ঘর সরাতে হয়েছে। এখন আর কোথায় যাব বুঝতে পারছি না। বাচ্চাদের নিয়ে খুব ভয়ে আছি।
দক্ষিণ উলানিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিলন চৌধুরী বলেন, ‘মেঘনা এখন আমাদের গ্রামগুলো গিলে খাচ্ছে। বিগত সরকারের আমলে শুধু উলানিয়া জমিদার বাড়ি এলাকায় ব্লকের কাজ হয়েছে। বাকি সাত গ্রাম এখন ঝুঁকির মুখে পড়েছে।’
এ বিষয়ে আলাপকালে বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল বলেন, ‘দক্ষিণ উলানিয়া থেকে উত্তর উলানিয়ার লালপুর পর্যন্ত দুই কিলোমিটার এলাকা নদী ভাঙন থেকে রক্ষায় একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। প্রকল্পটি পাশ হয়ে এলেই কাজ শুরু হবে।’ তিনি বলেন, ‘দুই উলানিয়ায় নদী ভাঙন রোধে নতুন এ প্রকল্পের আওতায় দুই কিলোমিটারজুড়ে চারটি প্যাকেজে স্থায়ী নদী তীর প্রতিরক্ষা কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। এটি বাস্তবায়ন হলে মেঘনা তীরবর্তী এলাকাগুলো দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।’










