অর্থনীতিতে গতি আনতে ও সংকটে থাকা বেসরকারি খাতকে সচল করতে সরকারের ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে পিকেএসএফকে এ ঋণ দেয়া হচ্ছে। গতকাল পিকেএসএফ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। আগামী সপ্তাহ নাগাদ এ অর্থ ছাড় হতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও পিকেএসএফ সূত্রে জানা গেছে, প্রান্তিক এলাকায় নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, নারী ও তরুণদের স্বাবলম্বী করা, গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা করা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার ভ্যালু চেইন সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই এ তহবিল গঠন করা হয়েছে। সারা দেশে সম্ভাবনাময় ক্লাস্টারগুলো বিকাশের মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোগ খাতে সরাসরি অন্তত দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য রয়েছে।
রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনে গতকাল চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের পরিচালক নওশাদ মোস্তাফা এবং পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহমেদ ও মো. আনিছুর রহমানসহ দুই প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের শর্ত অনুযায়ী, পিকেএসএফকে দেয়া ঋণের সুদ ও আসলের বিপরীতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সার্বভৌম গ্যারান্টি দিতে হয়। আর অর্থ মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রায়ত্ত, স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার ঋণের বিপরীতে গ্যারান্টি দিলে সরকার শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ হারে গ্যারান্টি ফি বা প্রিমিয়াম নেবে। ৫ হাজার কোটি টাকা প্রিমিয়াম ফি সাড়ে ১২ কোটি টাকা এরই মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেছে পিকেএসএফ।
সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের বলেন, ‘ক্ষুদ্র উদ্যোগে অর্থায়নের ফলে কর্মসংস্থানে বহুগুণ প্রভাব পড়ে। এ তহবিলের মাধ্যমে সরাসরি দুই লাখ এবং পরোক্ষভাবে আরো সাত-আট লাখ মানুষের কর্মসংস্থান তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে।’
বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৩ শতাংশ সুদে নেয়া ঋণ অংশীদার বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে বিতরণ করবে পিকেএসএফ। এক্ষেত্রে ৭ শতাংশ সুদে অর্থ দেয়া হবে। বর্তমানে মাঠপর্যায়ে ক্ষুদ্র ঋণের সুদহার প্রায় ২৪ শতাংশ হলেও এ তহবিলের আওতায় গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ১৮ শতাংশ সুদ দিতে হবে। ২৫ লাখ টাকার বেশি ঋণ নিলে সুদহার আরো কমে ১৬ শতাংশ হবে।










