নোয়াখালী পৌরসভা এলাকায় যেখানে সেখানে গড়ে উঠেছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ড। জেলা শহরের সোনাপুর জিরো পয়েন্ট থেকে মাইজদী বাজার পর্যন্ত মাত্র চার কিলোমিটারের মধ্যে স্ট্যান্ড রয়েছে আটটি। এতে যেমন যানজট তৈরি হচ্ছে, তেমনি নষ্ট হচ্ছে শহরের সৌন্দর্য। আর সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

সোনাপুর জিরো পয়েন্ট থেকে মাইজদী বাজার পর্যন্ত মাত্র চার কিলোমিটারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নোয়াখালী পৌর শহর। এক রাস্তার এ শহরে পৌর নাগরিকদের পাশাপাশি দাপ্তরিক, স্বাস্থ্য ও উচ্চশিক্ষাজনিত কারণে প্রতিদিনই লাখো মানুষ ভিড় করে। উপজেলাগুলো থেকে জেলা শহরে আসার জন্য যাত্রীবাহী বাস তেমন একটা না থাকায় যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম হয়ে পড়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা। ফলে প্রতিদিন শহরে প্রয়োজনীয় কাজ সারতে বিভিন্ন উপজেলার মানুষ সিএনজিচালিত অটোরিকশায় জেলা সদরে আসে। এতে শহরের বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ড।

সরেজমিনে দেখা যায়, শহরে পৌরসভার নির্ধারিত দুটি বড় স্ট্যান্ড রয়েছে। একটি সোনাপুর পৌর বাস টার্মিনাল, অন্যটি নতুন বাস্ট্যান্ড পৌর টার্মিনাল। এর মধ্যে সোনাপুর পৌর টার্মিনালটি সম্প্রতি আধুনিকভাবে গড়ে তোলা হয়েছে। দুই টার্মিনালেই সিএনজিচালিত অটোরিকশার জন্য নির্ধারিত স্থান রয়েছে। তবে সেখানে কোনো অটোরিকশা নেই।

জেলা শহরের ব্যস্ততম এলাকা সোনাপুর। দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া, সুবর্ণচর, কবিরহাট ও লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি, কমলনগর উপজেলার প্রত্যেকটি যানবাহন প্রথমে আসে সোনাপুরে। কিন্তু সোনাপুরে সড়কের ওপর সিএনজিচালিত অটোরিকশার পার্কিং হওয়ায় সেখানে সকাল ৯টার পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্তই অসহনীয় যানজট সৃষ্টি হয়। এতে গন্তব্যে পৌঁছতে নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে আধা ঘণ্টা থেকে ১ ঘণ্টা সময় বেশি লাগে।

শুধু সোনাপুর নয়। সোনাপুর জিরো পয়েন্ট থেকে মাইজদী বাজার পর্যন্ত মাত্র চার কিলোমিটারের এ সড়কে এমন অবৈধ পার্কিং রয়েছে আটটি, যার মধ্যে জামে মসজিদ মোড় থেকে মাইজদী বাজার পর্যন্ত দেড় কিলোমিটারে প্রধান সড়ক ও তার আশপাশের সংযোগ সড়কে পার্কিং রয়েছে সাতটি। এতে অসহনীয় যানজটের পাশাপাশি শহরের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। সড়কের দুই পাশের দোকানগুলোতেও পণ্য বিক্রিতে ভাটা পড়ছে।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শুভ জানান, সিএনজি পার্কিংয়ের কারণে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে বেশ বেগ পেতে হয়। তাছাড়া ছাত্রীরা হেঁটে পারাপারের সময় নানা অশোভন আচরণের শিকার হন।

দেশের অন্যতম ও ঐতিহ্যবাহী প্রথম শ্রেণীর এ পৌরসভার বয়স প্রায় দেড়শ বছর। অথচ এখনো পরিকল্পিত নগর গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি, যার কুফল ভোগ করতে হচ্ছে নাগরিকদের। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে পার্টিসিপেটরি রিচার্স অ্যাকশন নেটওয়ার্ক-প্রানের নির্বাহী প্রধান নুরুল আলম মাসুদ বলেন, শহরে বিভিন্ন সড়কের ওপর থাকা অটোরিকশার পার্কিং উচ্ছেদ করে মূল শহরের বাইরে স্থান নির্ধারণ করা দরকার।

শহরজুড়ে সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা পার্কিংকে অবৈধ বলে স্বীকার করেছেন মালিক সমিতির নেতারা। এ বিষয়ে মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান রাজু জানান, মানুষের প্রয়োজনেই অটোরিকশা চলাচল করে। প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের অসহযোগিতার কারণে বাধ্য হয়ে তারা সড়কে পার্কিং গড়ে তুলেছেন।

এ বিষয়ে নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র শহিদ উল্যাহ খান সোহেল বলেন, একাধিকবার উদ্যোগ নিয়ে অবৈধ এসব পার্কিং সরানো হয়েছে। কিন্তু কিছুদিন পর আবারো তারা পার্কিং গড়ে তোলেন। তবে এ বিষয়ে শিগগিরই একটি উদ্যোগ নেয়া হবে। সোনাপুর টার্মিনালে সিএনজিচালিত অটোরিকশার জন্য যে নির্ধারিত স্থান রাখা হয়েছে, সেখানে তাদের পার্কিং করতে বাধ্য করা হবে। একই সঙ্গে শহরে স্থান নির্ধারণ করে এসব পার্কিং সরিয়ে নেয়া হবে। বর্তমানে ফোর লেন সড়কের কাজ চলমান রয়েছে। তা সম্পূর্ণ হওয়ার পর কিছু সংকট কেটে যাবে।

নোয়াখালী সদর ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (টিআই) মো. বখতিয়ার উদ্দিন বলেন, পুলিশ সবসময়ই যানজট নিরসনে কাজ করছে। বেশ কয়েকবার এসব পার্কিং সরানো হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে নো পার্কিং সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছে।  এজন্য প্রয়োজন পৌরসভা, জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ।