সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, অটো রাইস মিল স্থাপন করতে দরকার হয় পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, ট্রেড লাইসেন্স, শিল্প সনদ, ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স ও ফুড লাইসেন্স। আবাসিক এলাকা, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকার বাইরে অটো রাইস মিল স্থাপনের নির্দেশনা রয়েছে। তবে সেসব নিয়মের কোনোটিই প্রতিপালন না করে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার কোকডোহরা ইউনিয়নের পাছ চারান গ্রামে নির্মাণ করা হচ্ছে অটো রাইস মিল। রাজধানী এগ্রো ফুড নামে মিলটির কাজও শেষ হয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবাসিক কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এলাকায় কলকারখানা স্থাপন করলে তা শব্দদূষণ ঘটায়। জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া কলকারখানার ধোঁয়া ও তা থেকে নির্গত ক্ষুদ্র কণা শ্বাসপ্রশ্বাসে ব্যাঘাত ঘটায়। বিভিন্ন ধরনের রোগ সৃষ্টি করে।

এ ব্যাপারে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এএসএম সাইফুল্লাহ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আবাসিক এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানের জন্য শব্দের সহনশীল মাত্রা নির্ধারণ করা আছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, শব্দের মাত্রা ৭৫ ডেসিবেল অতিক্রম করলে ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। ১২০ ডেসিবলের ওপরে গেলে বেদনাদায়ক হয়।’

তবে রাজধানী এগ্রো ফুডের মালিক মো. মোশারফ হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এটা তো আবাসিক এলাকা? আমার এখানে আরো তিনটি রাইস মিল রয়েছে। আমরা পরিবেশের ছাড়পত্রের জন্য আবেদন জমা দিয়েছি। সেটি পেলে তারপর একে এক সব আবেদন জমা দেব।’

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাহমুদুল হক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা-২০২৩ অনুযায়ী, রাইস মিল স্থাপন গ্রহণযোগ্য নয়। রাজধানী এগ্রো ফুডের মালিক পরিবেশের ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করেছিলেন। ডা. সাঈদা খানম তার অভিযোগ প্রত্যাহার করেছেন, এমন একটি আবেদন জমা দেয়া হয়েছিল। তবে সেখানে ডা. সাঈদা খানের স্বাক্ষর জাল করা হয়।’