নওগাঁয় সড়কে আলু ফেলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন চাষীরা। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলা পরিষদের সামনে নওগাঁ, বগুড়া ও জয়পুরহাট জেলার কৃষক পরিবার এবং আলু ব্যবসায়ী পরিবারের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় ধান ও গমের মতো সরকারিভাবে আলুর দাম নির্ধারণের দাবিও জানান তারা।
কৃষকদের দাবি, উৎপাদন খরচের তুলনায় আলুর বাজারদর অর্ধেকেরও কম। এক কেজি আলু উৎপাদনসহ হিমাগারে রাখতে ২৫-২৬ টাকা খরচ হচ্ছে। তবে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ১১-১২ টাকা। সে হিসাবে প্রতি কেজি আলুতে অন্তত ১৪ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ করে আলু চাষ করেন তারা। বাজারে দাম না পেয়ে ঋণ পরিশোধ করতে পারছেন না।
নওগাঁ কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সোহাগ সরকার বলেন, ‘এ বছর আলুর ফলন ভালো হয়েছে। চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি উৎপাদন হয়েছে। বছরের এ সময়টাতে অন্যান্য সবজি বাজারে বেশি থাকায় মানুষ আলু কম কিনে। সরকারের পক্ষ থেকে ওএমএস অথবা টিসিবির মাধ্যমে আলু বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে।’
নওগাঁ সদর উপজেলার চকবাড়িয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল জলিল বলেন, ‘এ বছর আলুর দাম কম। ধান-চাল ও গমের দাম সরকারিভাবে নির্ধারণ করতে পারলে আলুর ক্ষেত্রে কেন হবে না? আলুচাষীদের ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করতে হবে।’
সদর উপজেলার বক্তারপুর গ্রামের আরেক কৃষক বুলবুল ইসলাম বলেন, ‘বাজারে ধানের দাম বেশি, চালের দামও বেশি। কিন্তু আলুর দাম কম। হিমাগারেও ভাড়া বেশি নেয়া হচ্ছে। এক মণ আলু চাষ করতেই ১২০০-১৩০০ টাকা খরচ হয়েছে। বাজারে এখন আলু বিক্রি করতে হচ্ছে ৫০০-৬০০ টাকা মণ। তাহলে আমরা যাব কোথায়? সরকার যদি আমাদের জন্য কোনো উদ্যোগ না নেয়, তাহলে আমরা বিপদে পড়ব।’
শহরের বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকার সাইফুল আলম বলেন, ‘গরু বিক্রি করে, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে লাভের আশায় আলু চাষ করেছিলাম। হিমাগারে প্রতি কেজি আলুতে আগের থেকে ৪ টাকা করে বেশি দিতে হচ্ছে। এক কেজি আলু উৎপাদনসহ হিমাগারে রাখতে ২৫-২৬ টাকা খরচ হচ্ছে। পাইকারি বাজারে এক কেজি আলু ১১-১২ টাকার বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে না। ঋণের টাকা পরিশোধ করা তো দূরের কথা, খরচের টাকা উঠানো নিয়েই এখন চিন্তার মধ্যে রয়েছি।’










