পঞ্চগড়ে কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের সালানা জলসা বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ, অবরোধ ও পুলিশের সঙ্গে বিক্ষুব্ধ জনতার ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। নিহত যুবক হলেন আরিফুর রহমান (২৭)। তিনি মসজিদপাড়া এলাকার ফরমান আলীর ছেলে। পঞ্চগড় পৌরসভার কাউন্সিলর মাজেদুর রহমান চৌধূরী ইরান আরিফের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। কাদিয়ান সম্প্রদায়ের সালানা জলসার মিডিয়া সেলের মাহমুদ আহম্মেদ সুমন জানান, তাদের একজন নিহত হয়েছেন। তবে তার পরিচয় পাওয়া যায়নি। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, গতকাল জুমার নামাজের পর পঞ্চগড় পৌরসভা এলাকার কয়েকটি মসজিদ থেকে মুসল্লিরা একত্র হয়ে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। একপর্যায়ে আহাম্মদনগর এলাকায় কাদিয়ানীদের জলসা অভিমুখে মিছিল নিয়ে রওনা হন মুসল্লিরা। এ সময় পঞ্চগড় চৌরঙ্গি মোড় এলাকায় পুলিশ মিছিলটিকে আটকে দিলে হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলতে থাকে। এ সময় পুলিশ-সাংবাদিকসহ কমপক্ষে অর্ধশতাধিক আহত হন।

এদিকে পুলিশ ও বিক্ষুব্ধ জনতার সংঘর্ষে জেলা শহরের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। রাত পর্যন্ত দোকানপাট বন্ধ ছিল। বেলা ২টার পর থেকে দফায় দফায় জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে সংঘর্ষ হয়েছে। 

এদিকে গতকাল বিকালে কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের আহাম্মদনগর মুসলিম জামাত এলাকার বাড়িগুলোয় বিক্ষুব্ধ জনতা ব্যাপক হামলা চালায়। হামলায় ২০-২৫টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে জ্বালিয়ে দেয়া হয়।

পুলিশের সঙ্গে বিজিবি, র‍্যাব যোগ দিয়েও বিক্ষুব্ধ জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিল না। বিভিন্ন স্থানে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন জনতা। দুপুরের পর থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত হামলা চলে। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. রহিমুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় ১৮ জন পুরুষ ভর্তি রয়েছেন, ২৭ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। দুজনকে রংপুর মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়েছে।