প্রায় দুই দশকে ফরিদপুরে দেড়শ লিচুর বাগান তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলা ও মধুখালীতে বাগানের পরিমাণ বেশি। দুটি উপজেলায় চলতি মৌসুমে ২১০ হেক্টর জমিতে লিচুর ফলন হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। তা থেকে ১ হাজার ১৮৬ টন লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কয়েক দিন ধরে টানা খরার কারণে ক্ষতির মুখে পড়ছেন চাষীরা। রোদের তাপে লিচুর গায়ে দাগ পড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পরিপক্ব হওয়ার আগেই তা ঝরে পড়ছে। এছাড়া ফলও বড় হচ্ছে না। এতে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন চাষীরা।
যদিও কৃষি বিভাগ বলছে, খরার কারণে লিচুর গায়ে দাগ পড়লেও সম্প্রতি বৃষ্টি হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সামনের দিকে আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন চাষীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মধুখালী উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নে আট দশক আগে থেকেই লিচু চাষ করে আসছিলেন চাষীরা। তবে গত দুই দশকের অধিক সময় ধরে এ অঞ্চলে নতুন করে প্রায় দেড়শ বাগান তৈরি হয়েছে। জাহাপুর ইউনিয়নের জাহাপুর, দোস্তরদিয়া, টেংরাকান্দি, মনোহরদিয়া, চর মনোহরদিয়া, খাড়াকান্দি ও মির্জাকান্দি গ্রামে ব্যাপকভাবে লিচুর চাষ হয়। মোজাফফর জাতের পাশাপাশি গুটি, বোম্বাই এবং চায়না-থ্রি জাতের লিচুও দেখা যায় এসব এলাকায়। এ অঞ্চলের লিচু ফরিদপুর ছাড়াও ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। মে মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে পুরোদমে লিচু সংগ্রহ শুরু হয় এবং জুনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে থাকে। মধুখালী উপজেলার জাহাপুর গ্রামের চাষীরা বলছেন, যদি আবহাওয়া প্রতিকূলে থাকে তাহলে প্রতি ১০ শতাংশ জমিতে গড়ে পাঁচ-সাতটি পূর্ণবয়স্ক লিচুগাছ থেকে প্রায় ২৫-৩০ হাজার টাকার লিচু বিক্রি করা যায়। তবে এ বছর টানা খরার কারণে লিচুর গায়ে দাগ পড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পরিপক্ব হওয়ার আগেই তা ঝরে পড়ছে। এছাড়া লিচুর আকারও বাড়ছে না।
লিচুচাষীরা বলছেন, ক্ষতির পরিমাণ কমাতে অনেকেই লিচু পাকার আগেই বিক্রি করে দিচ্ছেন। এতে প্রত্যাশিত দাম মিলছে না। অন্যান্য ফসল চাষ না করে লিচু চাষে আগ্রহী হওয়া চাষীরা শঙ্কায় পড়েছেন।
যদিও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী দিনগুলোয় আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা যাবে। এ ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ফরিদপুরের উপপরিচালক শাহাদুজ্জাজামান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এ অঞ্চলের চাষীরা আগাম জাতের লিচু চাষ করায় ভালো দাম পান। ফলন কিছুটা কম হলেও লোকসানে পড়বেন না তারা।’










