স্মার্ট ও টেকসই নগরায়ণে নির্মাণকাজে আধুনিক প্রযুক্তির গ্লাসের ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন জিএমইএবির সভাপতি ও নাসির সিনট্যাক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসিম বিশ্বাস। তিনি বলেন, ভবন নির্মাণে গ্লাসের ব্যবহার বাড়ানো হলে প্রাকৃতিক আলো ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জ্বালানি সাশ্রয় করা সম্ভব।

বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে বণিক বার্তা আয়োজিত ‘স্মার্ট সিটি কনক্লেভ ২০২৬’-এ ‘আবাসন, নির্মাণ ও টেকসই নগরায়ণ’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

নাসিম বিশ্বাস বলেন, ফ্লোট গ্লাস উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ। নির্মাণকাজে আরো বেশি গ্লাস ব্যবহার করলে ভবনের ভেতরে প্রাকৃতিক আলোর প্রবেশ বাড়বে, বৈদ্যুতিক আলোর ব্যবহার কমবে এবং জ্বালানির সাশ্রয় সম্ভব হবে।

প্রযুক্তির উন্নয়নের বিষয়ে নাসিম বিশ্বাস বলেন, খুব শিগগিরই দেশের কয়েকটি কারখানায় বিশেষ ধরনের স্বল্প-তাপরোধী কাচ বা লো-ই গ্লাস উৎপাদন শুরু হতে যাচ্ছে। এত দিন এ কাচ মূলত বিদেশ থেকে আমদানি করা হতো। এর পাশাপাশি ইউরোপীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ডাবল-গ্লেজড গ্লাসও বর্তমানে দেশে তৈরি হচ্ছে।

তিনি বলেন, ডাবল-গ্লেজড গ্লাসের ব্যবহার বাড়লে বড় অঙ্কের জ্বালানি সাশ্রয় করা সম্ভব। এটি ভবনের ভেতরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এই কাচ বাইরের গরম ভেতরে ঢুকতে বাধা দেয় এবং শীতকালে ভেতরের তাপ ধরে রাখে। ফলে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ও ঘর গরম রাখার যন্ত্র ব্যবহারের খরচ অনেকটাই কমে আসবে।

ঢাকার অতিরিক্ত জনসংখ্যার বিষয়ে নাসিম বিশ্বাস বলেন, প্রতি বছর ঢাকায় ৫ লাখের বেশি নতুন মানুষ স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করছে। এমন পরিস্থিতি শহরের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাই ঢাকার ওপর চাপ কমাতে নগরায়ণকে ঢাকাকেন্দ্রিক না রেখে অন্যান্য অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে হবে। ঢাকার ওপর চাপ কমিয়ে অন্যান্য শহরে অন্যান্য শহরে মনোযোগ বাড়াতে পারলে রাজধানীর জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে।

গ্লাসের পুনর্ব্যবহারযোগ্যতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গ্লাস পুনরায় প্রক্রিয়াজাত করলে জ্বালানি ও উৎপাদন খরচের পাশাপাশি নতুন কাঁচামাল কেনার খরচ ও আমদানি ব্যয় কমানো সম্ভব।

নাসিম বিশ্বাস আরো বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির কাচ ব্যবহারের পাশাপাশি শহরের জায়গা বাঁচাতে বহুতল ভবন নির্মাণ বাড়াতে হবে। এতে নগরের জমির সংকট মোকাবেলা করা সহজ হবে।