বৃহস্পতিবার থেকে নগরের ১৫টি পয়েন্টে তেল, চিনি, ডাল, ছোলা ও খেজুর বিক্রি শুরু করেছে রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানটি। বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বেশি হওয়ায় টিসিবির পণ্য নিতে শত শত মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। আবার লাইনে দাঁড়িয়ে অনেককে ধাক্কাধাক্কি ও ট্রাকের পেছনে দৌড়ে পণ্য নিতে দেখা গেছে। রমজান মাসজুড়ে টিসিবির এ কার্যক্রম চলবে।

টিসিবি সূত্রে জানা গেছে, নগরের ১৫টি স্থানে ট্রাকের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। স্থানগুলো হলো বয়রা সরকারি মহিলা কলেজ, প্রান্তিক মার্কেট, টেক্সটাইল মিল রোড, গোবরচাকা পল্লী মঙ্গল স্কুল মাঠ, এরশাদ আলী স্কুল মাঠ, শিশু হাসপাতালের সামনে, বাগমারা মোতালেব চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে, বসুপাড়া এতিমখানা রোড, আলকাতরা ক্লাবের মোড়, খুলনা প্রেস ক্লাব, দক্ষিণ টুটপাড়া মসজিদ মাঠ, পাইওনিয়ার সরকারি মহিলা কলেজ, শিপইয়ার্ড রোড চানমারী বাজার, রূপসা ব্রিজের নিচে, আফিল উদ্দিন স্কুল প্রাঙ্গণ ও শিল্পকলা একাডেমি।

প্রতি প্যাকেজের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৯০ টাকা। প্রতিটি ট্রাক থেকে ৪০০ জন মানুষ পণ্য কিনতে পারছেন। প্রতিটি প্যাকেজে থাকছে ২ লিটার ভোজ্য তেল, ১ কেজি চিনি, ২ কেজি ডাল, ১ কেজি ছোলা ও ৫০০ গ্রাম খেজুর।

টিসিবির পণ্য নিতে আসা ক্রেতারা বলছেন, এবার রোজার আগেই প্রায় সব পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। যেসব পণ্যের দাম এক-দুই মাস আগেও কম ছিল, তা বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এমন পরিস্থিতিতে অল্প দামে এসব খাদ্যপণ্য পেতে ট্রাকের পেছনে ভিড় করেছেন তারা।

টিসিবির খুলনা আঞ্চলিক পরিচালক মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটি ব্যতীত প্রতিদিন ট্রাকের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ডের বাইরেও সাধারণ মানুষ এ পণ্য কিনতে পারছেন। এক্ষেত্রে কোনো কিছুর প্রয়োজন হবে না। ট্রাকসেলে পণ্যের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ছোলা এবং আধা কেজি খেজুর।

এদিকে রমজান উপলক্ষে মাংস ও ডিমের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)। প্রতিকেজি খাসির মাংস ১১০০-১২০০ টাকা, গরুর মাংস ৭৪০-৭৫০ টাকা, ডিম প্রতি হালি ৩৮-৪৪ টাকা ও বয়লায় মুরগি প্রতিকেজি ১৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও নগরের অধিকাংশ ব্যবসায়ীরা তা মানছেন না বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।