কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিন উর রশিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় দুদেশের কৃষি পণ্য আমদানি-রফতানি, শিক্ষা ও গবেষণা, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতসহ পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের কৃষি খাতে অনেক মিল রয়েছে। বাংলাদেশ কৃষিখাতকে রফতানিমুখী করতে চায়। এ জন্য দেশের কৃষিকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। উচ্চ ফলনশীল ফসল ও আধুনিক চাষাবাদ ব্যবস্থা অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি বলেন, দেশে সারা বছর আনারস উৎপন্ন হয় যা স্বাদে এবং গুণগত মানে অনন্য। তিনি পাকিস্তানকে বাংলাদেশ থেকে আনারস আমদানির বিষয়ে আহ্বান জানান।
ব্লু ইকোনমি নিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, আমাদের গভীর সমুদ্রের সম্পদ বিশেষ করে মৎস্য আহরণের টেকসই প্রযুক্তি নিয়ে আমরা কাজ করছি। এরইমধ্যে এ বিষয়ে অভিজ্ঞ দেশের সহযোগিতায় মৎস্য সম্পদ জরিপ হয়েছে। এ বিষয়ে যেকোনো ধরণের সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য মন্ত্রী হাইকমিশনারকে আহ্বান জানান।
হাইকমিশনার বলেন, পাকিস্তান বাংলাদেশের কৃষি ও প্রাণিসম্পদখাতে একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।
পাকিস্তানের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কৃষি ও ভেটেরিনারি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের পূর্ণবৃত্তি দেয়া হচ্ছে। দুদেশের কৃষি ও প্রাণিসম্পদ ইনস্টিটিউট এক্সচেঞ্জ কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণার সম্ভাবনার কথাও হাইকমিশনার জানান।
পাকিস্তানে উন্নত জাতের গরুর সঙ্গে সংকরায়নের মাধ্যমে দেশী গরুর দুধ ও মাংসের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব উল্লেখ করে এ বিষয়ে কাজ করতে তার দেশের আগ্রহের কথা জানান।
হাইকমিশনার তার দেশে উৎপাদিত চাল, মেইজ, তুলা, ইক্ষু ও বিভিন্ন প্রজাতির ফল বাংলাদেশে রফতানি হচ্ছে জানিয়ে বলেন, উচ্চ ফলনশীল ইক্ষুসহ চিনি উৎপাদনে তার দেশ বাংলাদেশকে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা করতে আগ্রহী।
পাকিস্তান বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কৃষি যন্ত্রপাতি সরবারহ করছে জানিয়ে ইাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশ আগ্রহী হলে তার দেশ থেকে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি রফতানি সম্ভব।
কৃষিমন্ত্রী পাকিস্তান হাইকমিশনারের আগ্রহকে স্বাগত জানান।










