ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনেক আলোচিত প্রার্থী জয় লাভ করলেও হেরেছেন বেশ কয়েকজন। প্রতিপক্ষের সঙ্গে তুমুল লড়াইয়ের পর শেষ পর্যন্ত আলোচনার কেন্দ্রে থাকলেও হেরেছেন তারা।

জামায়াতে ইসলামীর তিন শীর্ষ নেতাসহ হেরেছেন বিএনপি, এনসিপি, খেলাফত মজলিস ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আলোচিত কয়েকজন প্রার্থী।

নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী

ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাসের প্রতিপক্ষ ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এনসিপির প্রার্থী নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী। নির্বাচনী প্রচারের সময় একের পর এক আক্রমণাত্মক বক্তব্যের কারণে সবার নজরে ছিল ঢাকা ৮ আসন। প্রতিদ্বন্দ্বীকে নিয়মিত আক্রমণাত্মক কথা বলার কারণে আলোচনায় ছিলেন নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী। কিন্তু প্রায় পাঁচ হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন তিনি।

তাসনিম জারা

অন্যদিকে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করে ঢাকা ৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন তাসনিম জারা। কিন্তু বিপুল ভোটে বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রশীদের বিপরীতে হেরেছেন তিনি।

সারজিস আলম

জুলাই অভ্যুত্থানে আলোচিত মুখ ও এনসিপির অন্যতম নেতা সারজিস আলম এবারের নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন পঞ্চগড়-১ আসনের। তবে শেষ পর্যন্ত প্রায় আট হাজার ভোটের ব্যবধানে তিনি হেরেছেন বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ নওশাদ জমিরের কাছে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার

খুলনা-৫ আসন নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। কিন্তু প্রায় তিন হাজার ভোটের ব্যবধানে তিনিও হেরেছেন প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ আলী আসগার।

এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ

কক্সবাজার-২ আসনে হেরেছেন আরেক জামায়াতে ইসলামীর আলোচিত প্রার্থী এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। ৯০ হাজারের কাছাকাছি ভোট পেলেও প্রায় ৩৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিএনপির প্রার্থী আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদের কাছে হেরেছেন তিনি।

শিশির মনির

এবারের নির্বাচনে প্রচারণায় আলোচনায় ছিলেন সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই ও শাল্লা) আসনের জামায়াতের ইসলামীর প্রার্থী শিশির মনির। কিন্তু বিএনপির প্রার্থী মো. নাছির চৌধুরীর কাছে হেরেছেন তিনি।

মামুনুল হক

দেশের রাজনীতিতে নানা ঘটনায় প্রভাবে আলোচনায় ছিলেন খেলাফত মজলিসের নেতা মামুনুল হক। ঢাকা-১৩ তেও তাই প্রতিপক্ষ বিএনপি দলীয় প্রার্থী ববি হাজ্জাজের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। তবে দুই হাজার ৩২০ ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন মামুনুল হক।

রাশেদ খান

গণঅধিকার পরিষদ থেকে পদত্যাগ করে এবার ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন রাশেদ খান। কিন্তু প্রায় ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা আবু তালেবের কাছে হেরেছেন তিনি।

সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম

বরিশাল-৫ (সিটি-সদর) ও বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) এ দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম। বরিশাল-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারের চেয়ে ৪০ হাজার ১০২ ভোট কম পেয়েছেন। একইভাবে বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী আবুল হোসেন খানের চেয়ে ২৬ হাজার ২২৯ ভোট কম পেয়েছেন তিনি।

মনীষা চক্রবর্তী

বরিশাল-৫ (সিটি-সদর) আসনের বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল ও গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী মনীষা চক্রবর্তীও এই নির্বাচনে বেশ আলোচিত ছিলেন। এই আসনে একমাত্র নারী প্রার্থী ও শ্রমজীবীদের থেকে মাটির ব্যাংকে নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি মানুষের নজর কেড়েছিল। ২১ হাজারের মতো ভোট পেয়ে এই আসনে তৃতীয় হয়েছেন তিনি।

মাহমুদুর রহমান মান্না

বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে আলোচনায় ছিলেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। শেষ পর্যন্ত তিনি প্রত্যাশিত ফল করতে পারেননি। বিএনপির প্রার্থী মীর শাহে আলমের কাছে এক লাখ ৪১ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন তিনি। এতে করে তিনি জামানত হারিয়েছেন।

আমিনুল হক

ঢাকা-১৬ আসনে হেরেছেন বিএনপির প্রার্থী আমিনুল হক। প্রায় সাড়ে তিন হাজার ভোটের ব্যবধানে জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল বাতেনের কাছে হেরেছেন তিনি।

জি এম কাদের

এক সময়ের জাতীয় পার্টির উল্লেখযোগ্য আসন রংপুর-৩ থেকে হেরেছেন দলটির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। দেড় লাখের বেশি ভোটের ব্যবধানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মাহবুবুর রহমান (বেলাল) এর কাছে হেরেছেন তিনি।