বাংলাদেশে বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন থাকা জাপানি বিনিয়োগের বেশ কিছু উদ্যোগ যথাসময়ে বাস্তবায়িত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি। একই সঙ্গে শিল্প খাতের বহুমুখীকরণ, পশ্চাৎমুখী শিল্পের প্রসার, অপ্রয়োজনীয় নীতিগত বাধা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (জেবিসিসিআই) ২১তম বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন।

সাইদা শিনিচি বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। জাপান-বাংলাদেশ চেম্বারের সহায়তায় চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হবে।

বাংলাদেশের মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণের অগ্রগতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে জাপানের রাষ্ট্রদূত বিদেশী প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ আকর্ষণে নীতিগত গুরুত্ব বাড়ানোর উদ্যোগকে স্বাগত জানান। একই সঙ্গে তরুণ প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

জাপান বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত উন্নয়ন ও ব্যবসায়িক অংশীদার উল্লেখ করে সাইদা শিনিচি দুই দেশের সম্পর্ক আরো এগিয়ে নেয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। উচ্চপর্যায়ের সফর ও মতবিনিময় বাড়লে দুই দেশের কৌশলগত ও ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব আরো শক্তিশালী হবে বলে মনে করেন তিনি।

সভায় জেবিসিসিআইয়ের বিদায়ী সভাপতি তারেক রফি ভূঁইয়া (জুন) বলেন, ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে জেবিসিসিআই। অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির সময়োপযোগী অনুসমর্থন, কার্যকর বাস্তবায়ন এবং এর সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যবসায়ীদের প্রস্তুতির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

একই সঙ্গে পূর্বানুমেয় ও বিনিয়োগবান্ধব ব্যবসায়িক পরিবেশ, ধারাবাহিক নীতি-সহায়তা, ব্যবসায়িক সংযোগ এবং ব্যবসায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তারেক রফি ভূঁইয়া।

জেবিসিসিআইয়ের মহাসচিব মারিয়া হাওলাদার জানান, বর্তমানে চেম্বারটির সদস্য সংখ্যা ৩৯১। ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি, নীতি-অ্যাডভোকেসি, সরকারের উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ, ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং, জাপান-বাংলাদেশ বিজনেস উইমেন কনফারেন্স, বিনিয়োগ উন্নয়নসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেছে সংগঠনটি।

সভায় ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর মেয়াদের নতুন পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদেরও পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়। কাজুইকি কাতাওকা জেবিসিসিআইয়ের নতুন সভাপতি এবং রাবিউল আলম মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন।

নতুন সভাপতি কাজুইকি কাতাওকা বলেন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশে জাপানের দীর্ঘদিনের অবদান আরো তুলে ধরতে চান তিনি। পাশাপাশি জেবিসিসিআইয়ের প্রায় ৪০০ সদস্য প্রতিষ্ঠানের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সেমিনার, জ্ঞান বিনিময় ও ব্যবসায়িক যোগাযোগসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়ার কথা জানান তিনি।

সভায় বিদায়ী পরিচালনা পর্ষদের বিভিন্ন কার্যক্রমের প্রশংসা করা হয়। অনুষ্ঠানে জাপান দূতাবাসের কর্মকর্তারাও অংশ নেন।