টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম সেরা বোলার জেমস অ্যান্ডারসনের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের পর্দা নামল। গতকাল লর্ডস টেস্টের তৃতীয় দিন সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় ইনিংসে ১৩৬ রানে অলআউট হয়ে গেলে ইনিংস ও ১১৪ রানের বিশাল জয় পায় স্বাগতিক ইংল্যান্ড। ৪১ বছর বয়সী পেস বোলার অ্যান্ডারসনকে তাই দারুণ এক বিদায়ী উপহার দিলেন তার সতীর্থরা।

গতকাল ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট ইনিংসে ৩২ রানে ৩ উইকেট নেন অ্যান্ডারসন। এর আগে প্রথম ইনিংসে নেন ২৬ রানে ১ উইকেট। তবে অভিষিক্ত গাস অ্যাটকিনসন একাই ধসিয়ে দেন ক্যারিবীয়দের। প্রথম ইনিংসে ৪৫ রানে ৭টি ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৬১ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন তিনি। ২৬ বছর বয়সী এ ডানহাতি ফাস্ট বোলারের বীরত্বে তিন টেস্টের সিরিজে ১-০-তে এগিয়ে গেল বেন স্টোকসের দল। 

১৮৮ টেস্টে ৭০৪ উইকেট নিয়ে থামলেন অ্যান্ডারসন। টেস্ট ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি বোলার তিনি। তার ওপরে রয়েছেন শুধু শ্রীলংকার মুত্তিয়া মুরালিধরণ (১৩৩ ম্যাচে ৮০০) ও অস্ট্রেলিয়ার শেন ওয়ার্ন (১৪৫ ম্যাচে ৭০৮)। পেস বোলারদের মধ্যে তিনিই একমাত্র ৭০০ উইকেট নিতে পেরেছেন। এমনকি দুইয়ে থাকা স্টুয়ার্ট ব্রডের উইকেট ৬০৪, আর গ্লেন ম্যাকগ্রা ৫৬৩ উইকেট নিয়ে আছেন তিনে। 

বিদায়বেলায় অ্যান্ডারসন বললেন, ‘অবিশ্বাস্য ২০টি বছর। দর্শকদের কাছ থেকে এতটা সাড়া পেয়ে আমি অভিভূত। যতবার এই জার্সিটি পরেছি, চেষ্টা করেছি ইংল্যান্ডকে জেতাতে কিংবা জয়ে সাহায্য করতে। প্রথম দিন আমার মেয়েরা বেল বাজাল, আজ দুই দল সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আমাকে সম্মান দেখাল, এ অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। অবিশ্বাস্য।’

১২ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হওয়া অ্যাটকিনসনের মুখে অ্যান্ডারসনের প্রশংসা। তিনি বলেন, ‘অবিশ্বাস্য একটি সপ্তাহ কাটল। আমি জিমিকে ধন্যবাদ দিতে চাই। এখানে তার শেষ টেস্টে খেলতে পারাটা আমার জন্য আনন্দের, সেই সঙ্গে ভালো করতে পেরে আমি আরো আনন্দিত। বড় হওয়ার সময়কালে এখানে এসে জিমির খেলা দেখেছি। মিডঅফে দাঁড়িয়ে ভাবছিলাম, আমি তো জিমিকে কতবার টিভিতে দেখেছি। এটা ছিল অবিশ্বাস্য।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংসে ১২১ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর ইংল্যান্ড ৩৭১ রান তোলে। ক্রেগ ব্র্যাথওয়েটের দল দ্বিতীয় ইনিংসে অলআউট ১৩৬ রানে।