দেশের সব প্রধান নদ-নদী বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও আগামী কয়েক দিনে চট্টগ্রাম বিভাগের কয়েকটি নদীর পানি দ্রুত বেড়ে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) জানিয়েছে, বিভাগটিতে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।

আজ প্রকাশিত বৃষ্টিপাত, নদ-নদীর পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগে ভারি থেকে অতি ভারি এবং ভারতের ত্রিপুরা ও আসামে মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্যানুযায়ী, আগামী পাঁচ দিন চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ এবং ভারতের ত্রিপুরা অঞ্চলেও ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে অবস্থানরত লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে, যা বৃষ্টিপাত বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকার নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে। আগামী তিন দিন পানি প্রায় স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং পরবর্তী দুই দিনে আবারো বাড়তে পারে। তবে এ সময়ও নদীগুলো বিপৎসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকার নদীগুলোর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় স্থিতিশীল ছিল। আগামী পাঁচ দিনও এ অবস্থা অব্যাহত থাকতে পারে এবং নদীগুলো বিপৎসীমার নিচে থাকবে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা নদীগুলোর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় কমেছে। আগামী দুই দিন তা স্থিতিশীল থাকতে পারে, এর পর আবার কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

চট্টগ্রাম বিভাগের পরিস্থিতি নিয়ে পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সাঙ্গু, মুহুরী, ফেনী, সাঙ্গু, হালদা, মাতামুহুরীসহ কয়েকটি নদীর পানি বেড়েছে। আগামী তিন দিন এসব নদীর পানি আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বান্দরবান, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার কয়েকটি স্থানে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া নোয়াখালী জেলার নদীসংলগ্ন নিচু এলাকাগুলোর কোথাও কোথাও সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে।

সিলেট ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে মনু, খোয়াই ও খলাই নদীর পানি বেড়েছে। অন্যদিকে সারিগোয়াইন, সোমেশ্বরী ও কংস নদীর পানি কমেছে এবং যাদুকাটা ও ফুগাই নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে। তবে আগামী ৭২ ঘণ্টায় এসব অঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে রংপুর বিভাগের তিস্তা নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে। ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি কমেছে, যা আগামী দুই দিন আরো হ্রাস পেতে পারে এবং তৃতীয় দিনে স্থিতিশীল থাকতে পারে।