মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে ব্যক্তিগত চরিত্রহনন ও অনলাইন হয়রানি গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) মিলনায়তনে আজ এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব বলেন। এসময় জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাইবার ইনসিডেন্ট রিপোর্টিং সিস্টেম (সিআইআরএস) ও ন্যাশনাল আইসিটি অ্যান্ড সাইবার সিকিউরিটি রেটিং সিস্টেম (এনআরসিএস) উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) মো. এমদাদ উল বারী উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর ও চরিত্রহননমূলক কনটেন্ট নিয়ে জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠছে। এ ধরনের কনটেন্ট অনেক তরুণ-তরুণীকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করছে। এতে কেউ কেউ আত্মহত্যাপ্রবণ অবস্থায়ও পৌঁছে যায়।
মন্ত্রী বলেন, জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বয়ও জোরদার করতে হবে।
তিনি বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে চরিত্রহননমূলক কনটেন্ট ছড়ানোর প্রবণতা মোকাবেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্লাটফর্মগুলোর সঙ্গে নীতিগত আলোচনা চলছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় খোঁজা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সাইবার ইনসিডেন্ট রিপোর্টিং সিস্টেমে অভিযোগ জানালে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করবে। তবে চরিত্রহননমূলক কনটেন্ট অপসারণে অনেক প্লাটফর্ম সংরক্ষিত অবস্থান নেয়। তাই আরো কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, সাইবার নিরাপত্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক বিষয় নয়। তবে দুটি পরস্পর–সম্পর্কিত। দেশে ভুয়া তথ্য, বিভ্রান্তিকর তথ্য, ট্রলিং, ব্যক্তিগত হয়রানি ও মানহানি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, এসব মোকাবেলা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়। সামাজিক, নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে। শুধু রিপোর্টিং ব্যবস্থায় এ সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান হবে না।
মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, সাইবার ইনসিডেন্ট রিপোর্টিং সিস্টেম দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সম্ভাব্য সাইবার হুমকি সম্পর্কে আগাম সতর্কবার্তা দেয়ার ক্ষেত্রেও এটি কার্যকর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) মো. এমদাদ উল বারী বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিশ্বের সব সরকারের জন্যই জটিল নীতিগত বিষয়। সবাই স্বাধীনতার পক্ষে থাকলেও এর সীমা কোথায় হবে, সে বিষয়ে বৈশ্বিক ঐকমত্য নেই। তাই স্বাধীনতা ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা বড় চ্যালেঞ্জ।










