নারীদের, বিশেষত প্রতিবন্ধী নারীদের কর্মসংস্থানে প্রবেশাধিকার বাড়াতে সরকারের প্রতি জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সাইটসেভার্স বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক নারী দিবস এবং আসন্ন বৈশ্বিক নারী ও প্রতিবন্ধী সম্মেলন উপলক্ষে এ আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
শনিবার (৮ মার্চ) তাদের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নারীরা যদি পুরুষদের সমান হারে কর্মসংস্থানে নিযুক্ত হতেন, তাহলে বাংলাদেশের মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) ৩৮.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২ হাজার ৫৫১ মার্কিন ডলার থেকে ৩ হাজার ৫৪৩ ডলার হতে পারত। যা মাথাপিছু ১ লাখ ২০ হাজার ৫০০ টাকার সমতুল্য।
বিশ্ব ব্যাংকের এক প্রতিবেদনের বরাতে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কর্মসংস্থানে লিঙ্গ বৈষম্য দূর করতে ব্যর্থ হওয়ায় কিছু দেশের সম্ভাব্য আয়ের পাঁচ ভাগের এক ভাগ পর্যন্ত ক্ষতি হচ্ছে। এই বৈষম্য দূর করার ফলে তিন-চতুর্থাংশ লাভ তাৎক্ষণিকভাবে অনুভূত হবে, আর বাকিটা এক প্রজন্মের মধ্যে আসবে।
জানা গেছে, বাংলাদেশে কর্মসংস্থানে লিঙ্গ বৈষম্যের হার ৩৮.৯ শতাংশ। অর্থাৎ, ১৫-৬৪ বছর বয়সী প্রতি ১০ জন পুরুষের মধ্যে ৮ জন কর্মরত থাকলেও, নারীদের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ৪ জনেরও কম।
সাইট সেভার্স বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর অমৃতা রেজিনা রোজারিও বলেন, সম্পদের অভাব এবং কর্মক্ষেত্রে বাধার কারণে লাখ লাখ নারী, বিশেষ করে প্রতিবন্ধী নারীরা অর্থনৈতিক সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রতিবন্ধীত্ব ও লিঙ্গ বৈষম্যের যৌথ প্রভাবের কারণে তারা চরম দারিদ্র্যের মুখে পড়েন।
প্রসঙ্গত, নারীদের স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিতের জন্য কাজ করে সাইটসেভার্স। তাদের বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবন্ধী নারীদের দক্ষতা অর্জন এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি করতে সহায়তা করা হয়, যাতে তারা চাকরি পেতে পারেন বা ব্যবসা শুরু ও সম্প্রসারণ করতে পারেন।
কোনো একজন ব্যক্তির জীবন পরিবর্তনের উদাহরণ হিসেবে দেখা যায় প্রমীলা বিশ্বাসকে। তিনি ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে দর্জির কাজ করছেন এবং সাইটসেভার্সের ইনক্লুসিভ আই কেয়ার প্রোগ্রামের মাধ্যমে চশমা পেয়েছেন। প্রমীলা বলেন, এক-দুই বছর আগে আমি প্রথম অনুভব করি, চোখে সমস্যা হচ্ছে। তখন আমি সেলাই মেশিনে সূঁচে সুতা পরাতে পারতাম না।
গত বছরের জুলাই মাসে প্রমীলা চক্ষু পরীক্ষার সুযোগ পান। তিনি বলেন, তারা আমাকে একটি চশমা দিল এবং বললো, সূক্ষ্ম কাজ করার সময় এটি ব্যবহার করতে। এখন আমি ভালোভাবে দেখতে পারি এবং সহজেই সেলাইয়ের কাজ করতে পারি।








