সুন্দরবনে হরিণ শিকারিদের ফাঁদে আটকে পড়ার দুদিন পর উদ্ধার করা বাঘিনীকে খুলনায় রেসকিউ সেন্টারে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে প্রণীটি শঙ্কামুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন ভেটেরিনারি কর্মকর্তারা। উদ্ধারের ২৪ ঘণ্টা পরও ট্রমা কাটেনি বাঘিনীর। গতকাল দুপুর পর্যন্ত খাবারও মুখে দেয়নি। দীর্ঘদিন ধরে অভুক্ত থাকায় শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে প্রাণীটি। আপাতত স্যালাইন মিশ্রিত পানি পান করছে সে। পূর্ণবয়স্ক বাঘিনীর সামনের বাম পায়ে গভীর ক্ষত তৈরি হয়েছে। সঠিক চিকিৎসা বিঘ্নিত হলে গ্যাংগরিন হতে পারে। এর থেকে কিডনিতেও প্রভাব পড়তে পারে।

এর আগে রোববার দুপুরে সুন্দরবনের ভেতর থেকে হরিণ শিকারের পাতা ফাঁদে আটকা পড়া বাঘিনীকে উদ্ধার করে বন বিভাগ। এর ওজন প্রায় ১০০ কেজি। প্রায়-থেকে পাঁচ দিন ধরে প্রাণীটি আটকা ছিল বলে ধারণা করছেন বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা। রোববার সন্ধ্যায় এটিকে খুলনায় বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনবার্সন কেন্দ্রে আনা হয়। বর্তমানে সেখানেই রয়েছে।

উদ্ধারের জন্য গাজীপুর সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি অফিসারসহ বিশেষজ্ঞ দল আসে রোববার দুপুরে। এছাড়া উদ্ধার কাজে আসেন সুন্দরবন বন বিভাগ ও খুলনা থেকে বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তারা।

বাঘিনীর চিকিৎসার বিষয়ে গাজীপুর সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি কর্মকর্তা জুলকার বলেন, ‘ফাঁদে আটকে পা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়কটি টিস্যু কেটে গেছে। সেখানে পচন ধরতে পারে। তা থেকে গ্যাংগরিনের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাণীটি ফাঁদমুক্ত হতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। কিন্তু ফাঁদ অনেক মজবুত ছিল। তাই ছিঁড়তে পারেনি।’

তিনি বলেন, ‘খুলনায় রেখে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করে আবার বনের ওই জায়গাতেই ছেড়ে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সাফারি পার্কে নেয়ার চিন্তা করা হয়নি। কারণ সেখানে গেলে এটিকে বনে ফেরত পাঠানোর সম্ভাবনা কম। আমরা চাই, এটি সুন্দরবনে ফিরে যাক।’

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল জানান, ট্রানকুইলাইজার গান ব্যবহার করে অচেতন অবস্থায় বাঘিনীকে খুলনায় আনা হয়। সন্ধ্যায় তার জ্ঞান ফেরে। রাত ১০টায় একবার উঠে বসে। তবে কিছু মুখে দেয়নি। আগে থেকেই স্যালাইন মিশ্রিত পানি দেয়া হয়েছিল। গতকাল সকালে অল্প করে পানি পান করেছে। কিন্তু অন্য কোনো খাবার মুখে দেয়নি। প্রথমে বাঘটিকে আস্ত মুরগি দেয়া হয়েছিল। না খাওয়ায় পর মুরগি কেটে টুকরো টুকরো করে দেয়া হয়। দুপুর পর্যন্ত সেটিও মুখে দেয়নি। দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার কারণে দুর্বল হয়ে পড়ে। খাবার না খাওয়ায় কিছুটা দুশ্চিন্তা হচ্ছিল।