বাগেরহাটে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন ও ষাট গম্বুজ মসজিদ দেখতে পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে। সুন্দরবনের কটকা, করমজল, হারবারিয়াসহ ভ্রমণ স্পটগুলোর নির্মল পরিবেশে বন্যপ্রাণীদের সঙ্গে আনন্দ উপভোগ করছে পর্যটকরা। বিশ্ব ঐতিহ্য ষাট গম্বুজ মসজিদ ও খানজাহান (র.) মাজারসহ বিভিন্ন স্পটে দেশী-বিদেশী পযর্টকের সমাগম বেড়েছে কয়েক গুণ।
বন বিভাগের তথ্য বলছে, সুন্দরবন ভ্রমণের জন্য বিভাগীয় দপ্তর থেকে ২৫ ডিসেম্বর ১৮টি ট্যুর পারমিশন ইস্যু করা হয়েছে। ১৮টি পারমিশনে ৬১১ জন দেশী ও ১৩ জন বিদেশী পর্যটক সুন্দরবনে যাওয়ার জন্য বন বিভাগের নির্ধারিত রাজস্ব জমা দিয়েছে।
গতকাল সকাল থেকেই ষাট গম্বুজ মসজিদ দেখতে দর্শনার্থীরা ভিড় করে। অনেকে প্রথমবারের মতো মসজিদে নামাজ আদায় করেছে। প্রতিদিন দর্শনার্থী আসছে ষাট গম্বুজ মসজিদ ও সুন্দরবনের বিভিন্ন পর্যটন স্পটে। পদ্মা সেতুর কারণে দিনের মধ্যে এসব স্পট ঘুরে আবার গন্তব্যে ফিরে যেতে পারছে তারা।
ঢাকা থেকে আসা জান্নাতুল নামে এক দর্শনার্থী বলেন, ‘বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পাওয়া ষাট গম্বুজ মসজিদের কথা বইয়ে পড়েছি। প্রাচীনতম এ নিদর্শন দেখতে পরিবারসহ এসেছি। পুরো ক্যাম্পাস ঘুরে দেখেছি, অনেক ভালো লেগেছে। এখানে আবারো আসব।’
বাগেরহাট প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কাস্টোডিয়ান মো. যায়েদ বলেন, ‘তিনদিনের টানা ছুটিতে ষাট গম্বুজ মসজিদ দেখতে আগের তুলনায় কয়েক গুণ দর্শনার্থী বেড়েছে। গত তিনদিনে প্রায় ১০ হাজার দেশী-বিদেশী পর্যটক এসেছেন।’
সুন্দরবনে ঘুরতে আসা সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘অনেক দিন থেকে ইচ্ছা ছিল সুন্দরবন ঘুরতে আসব। বড়দিনসহ তিনদিনের ছুটি পেয়ে বন্ধুদের নিয়ে সুন্দরবনে চলে এলাম। এখানে এসে অনেক ভালো লাগছে। বিভিন্ন রকম বন্যপ্রাণী দেখলাম। নিজ হাতে হরিণকে গাছের পাতা খাইয়েছি। কাছ থেকেই বানরের লাফালাফি দেখেছি।’
সুন্দরবনের পূর্ব বন বিভাগের অন্যতম পর্যটন স্পট কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান জানান, সুন্দরবনে পর্যটকের সমাগম বেড়েছে। প্রতিদিন লঞ্চ ও জাহাজে করে শত শত পর্যটক জায়গাটিতে আসছেন। গতকাল মৌসুমের সর্বোচ্চসংখ্যক ৩৮টি জাহাজে করে দুই হাজারের বেশি পর্যটক এসেছে। পর্যটকরা কটকায় মায়াবী চিত্রল হরিণের ছোটাছুটি এবং নদী ও খালের চরে কুমিরের রোদ পোহানোর দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হয়েছে। তাছাড়া পর্যটকরা কটকার জামতলা সি বিচে ঘোরাঘুরি ও কেউ কেউ সাগরের পানিতে গোসল করেছে।’
করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন ও ট্যুরিজম কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবীর বলেন, ‘বড়দিনসহ টানা তিনদিনের ছুটিতে সুন্দরবনে পর্যটকের ঢল নেমেছে। বিপুলসংখ্যক দেশী-বিদেশী পর্যটক করমজলে ঘুরতে এসেছেন।’
তবে ট্যুর অপারেটর অব সুন্দরবনের (টোয়াস) সেক্রেটারি নাজমুল আযম ডেভিট বলেন, ‘সুন্দরবনে বর্তমানে পর্যটকের প্রবাহ বাড়লেও গত বছরের তুলনায় কমসংখ্যক পর্যটক সুন্দরবনে যাচ্ছেন।’










