বড়দিন খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। ধর্মীয় বিধান অনুসারে প্রার্থনা ও আনন্দ আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করেন তারা। সাধারণত দিনটিতে কেক কাটা হয়। পাশাপাশি বাড়িতে উপাদেয় খাবার রান্না, ক্রিসমাস ট্রি সাজানো ও আলোকসজ্জাও করা হয়। শিশুদের মধ্যে বিতরণ করা হয় উপহার। গির্জাগুলোয়ও থাকে সাজসজ্জা ও বড়দিনের বিশেষ প্রার্থনা। নানা আয়োজনে রাজধানীর বাইরেও উদযাপন হয়েছে বড়দিন। গতকাল সকাল থেকেই শুরু হয় ধর্মীয় এ উৎসব।
বড়দিন উপলক্ষে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার কেয়াইন ইউনিয়নের শুলপুর খ্রিস্টানপল্লী পরিণত হয় মিলন মেলায়। সকাল ৭টা থেকে গির্জায় মঙ্গল প্রার্থনায় সমবেত হন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা। বাহারি রঙের নতুন পোশাকে শিশু থেকে বৃদ্ধ সবাই শামিল হন এ আয়োজনে। এছাড়া গির্জা প্রাঙ্গণে অতিথি আপ্যায়নে এবারো রাখা হয় নানা রকমের পিঠা। পাশাপাশি রঙতুলির আঁচড়ে বাহারি সব নকশা আঁকা হয়েছে গির্জায়।
নেত্রকোনার খ্রিস্টান অধ্যুষিত দুর্গাপুর ও কলমাকান্দায় প্রার্থনাসহ নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে শুরু হয় বড়দিন উদযাপন। বিরিশিরি এলাকার উৎরাইল ধর্মপল্লীতে মঙ্গলবার রাতে প্রার্থনা হয়। এরপর যিশুর জন্মের খবর দিতে রাতভর চলে বাড়িতে বাড়িতে কীর্তন। বড়দিনে প্রতিটি গির্জা বেলুন, ফুল, রঙিন কাগজ আর আলোয় সাজানো হয়। দুর্গাপুর ও কলমাকান্দাসহ জেলায় এ বছর ১৫০টি গির্জায় বড়দিনের প্রার্থনা হয়েছে।
চট্টগ্রামের পাথরঘাটায় ঐতিহ্যবাহী জপমালা রাণী গির্জায় সকালে সমবেত প্রার্থনা ও সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বড়দিনের আনুষ্ঠানিকতা। প্রার্থনায় যিশুখ্রিস্টের জীবন থেকে শিক্ষার বিভিন্ন দিক তুলে ধরার পাশাপাশি দেশ-জাতির সমৃদ্ধি ও শান্তি কামনা করা হয়। এছাড়াও নগরীর ফিরিঙ্গি বাজার আরসি চার্চ, পাহাড়তলি গির্জা, জুবিলি রোড চার্চ, বোয়ালখালীর গোমদণ্ডীতে ক্যাথিড্রাল চার্চ এবং আনোয়ারা দেয়াঙ পাহাড়ের খ্রিস্টানদের উপাসনালয়ে বড়দিনের প্রার্থনা হয়েছে। প্রার্থনা শেষে বাড়িতে বাড়িতে চলে নানা উৎসব-আয়োজন।
ময়মনসিংহ নগরীর ভাটিকাশর এলাকার ক্যাথিড্রাল গির্জা হাউজে বড়দিনের বিশেষ প্রার্থনা শুরু হয়। এ সময় দেশবাসীর শান্তি ও মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করেন বৃহত্তর ময়মনসিংহের ধর্মগুরু বিশপ পনেন পল কুবি।
বরিশাল সদর রোডের ক্যাথলিক গির্জাসহ পাঁচটি গির্জায় বড়দিনের উৎসব আয়োজন করা হয়। দিনটি উপলক্ষে রাঙ্গামাটির আসামবস্তি নির্মলা মারিয়া গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা করেন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীরা। এ সময় সমবেত প্রার্থনা ও ধর্মীয় গানসহ বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা হয়।
প্রার্থনা ও কেক কাটার মধ্য দিয়ে দিনটির সূচনা হয় ঝিনাইদহ শহরের মডার্ন মোড়ের ব্যাপ্টিস্ট চার্চে। অনুষ্ঠানে রেভা মাইকেল তাপস দাস যিশুখ্রিস্টের জীবন ও তার মানবকল্যাণমূলক আদর্শ তুলে ধরেন।
এছাড়া কিশোরগঞ্জ, খাগড়াছড়ি, টাঙ্গাইল, রাজশাহী, কুড়িগ্রাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, গাইবান্ধা, রংপুর, শেরপুর, খুলনা, সিলেট, নাটোর, বগুড়া, মৌলভীবাজার, দিনাজপুর, বান্দরবানসহ সারা দেশে উদযাপন করা হয়েছে বড়দিন।










