দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ ঢাকায় যাতায়াতের জন্য বেশ কয়েকটি রুট ব্যবহার করে। এর মধ্যে প্রধান রুট দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথ। তবে পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর এ রুটে যাত্রীর চাপ অনেকটা কমেছে। ফেরি পারাপারে ভোগান্তি এড়াতে অধিকাংশ মানুষ পদ্মা সেতু হয়ে চলাচল করছে। যদিও ঢাকা-বরিশাল মাহাসড়কের ফরিদপুর ও মাদারীপুর অংশে ছোট-বড় খানাখন্দ যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়িয়েছে। ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করায় সময় লাগছে দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ। এছাড়া চলতি বছর আগস্টে পদ্মার অব্যাহত ভাঙনে পাটুরিয়ায় সচল থাকা তিনটি ফেরিঘাটের বেশির ভাগই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রায় তিন মাস পার হলেও সংস্কার করা হয়নি ঘাটগুলো। পাঁচটি ঘাটের মধ্যে মাত্র একটি ঘাট দিয়ে পুরোপুরি যানবাহন পারাপার হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০২ সালে আরিচা থেকে স্থানান্তর করে পাটুরিয়ায় ফেরিঘাটগুলো নির্মাণ করা হয়। তখন থেকেই দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের ভরসাস্থল হয়ে ওঠে এ নৌপথ। যানবাহন পারাপারের জন্য পাটুরিয়া অংশে পাঁচটি ফেরিঘাট রয়েছে। এর মধ্যে দুটি অপারেট করছে না বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। চলতি বছর পদ্মার অব্যাহত ভাঙনে বাকি তিন ঘাটের বেশির ভাগই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি পুরোপুরি সচল থাকলেও দুটি দিয়ে আংশিকভাবে যানবাহন পারাপার হচ্ছে। ভোগান্তি নিরসনে পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় নদী শাসনে ২০১৯ সালে একটি প্রকল্প নেয়া হয়। ওই সময় কিছু কাজও করা হয়েছিল। তবে ২০২৩ সালের দিকে প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যায়।
পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পাঁচটি ঘাটের মধ্যে দুটি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। অন্য তিনটি ঘাটের মধ্যে ২ ও ৪ নম্বর ঘাট আংশিক চালু রয়েছে। শুধু ৩ নম্বর ঘাট দিয়ে ফেরিতে যানবাহন ওঠানামা করছে। বন্ধ থাকা ঘাট দুটির মধ্যে ৫ নম্বর ঘাট অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। পন্টুনের র্যাম্প দুটি একপাশে উঁচু স্তরে আটকে রাখা হয়েছে। আর ১ নম্বর ঘাটের পন্টুনের র্যাম্প মাটি থেকে আলাদা হয়ে আছে। সংযোগ সড়কও ভাঙা। ২ নম্বর ঘাটের পন্টুনের র্যাম্প ও সংযোগ সড়কের মাঝখানে অনেকটা ফাঁকা থাকায় যানবাহনগুলো সহজেই ওঠানামা করতে পারছে না। এতে ওই ঘাটে ফেরি কম ভেড়ানো হচ্ছে। ৪ নম্বর ঘাটের লো ওয়াটার লেবেলের সামনের অংশ ভাঙা থাকায় ভারী যানবাহনগুলো পন্টুন থেকে ওপরে উঠতে গিয়ে আটকে যায়। র্যাম্পের মুখে যেকোনো যানবাহন আটকে পড়লে অন্য যানবাহনগুলো ওঠানামা করতে পারে না। রেকার দিয়ে আটকে থাকা যানবাহন সরিয়ে অন্য যানবাহনগুলোকে ওঠানামা করাতে হয়। শুধু ৩ নম্বর ঘাটটি পুরোপুরি সচল রয়েছে। একমাত্র ওই ঘাট দিয়েই যানবাহনগুলো পারাপার হচ্ছে।
ঘাট কর্তৃপক্ষ বলছে, আগস্টে পদ্মার স্রোতে পাটুরিয়ার সব ফেরিঘাট ভেঙে যায়। ওই সময় ঘাটগুলোকে সরিয়ে ওপরের অংশে স্থাপন করা হয়। পরে পদ্মার পানি কমতে থাকলে ওপরের লেবেলের পন্টুন দিয়ে যানবাহন ফেরিতে ওঠানামা করা সম্ভব হয় না। এরই মধ্যে পানির স্তর একেবারেই নিচে নেমে গেছে। ফলে ঘাটের ওপরের অংশে স্থাপন করা পন্টুনগুলোকে নিচে নামাতে হচ্ছে। কিন্তু নিচের স্তরের সংযোগ সড়কের সামনের অংশ নদীতে বিলীন হওয়ায় পন্টুনগুলো স্থাপন করা যাচ্ছে না। এছাড়া পন্টুনের নিচের অংশে প্রায় ৩০-৪০ ফুট গভীরতা তৈরি হয়েছে। এতে ঘাট এলাকায় বড় ধরনের সংস্কার জরুরি হয়ে পড়েছে। সংস্কার ছাড়া চারটি ঘাট পুরোপুরি সচল করা সম্ভব হচ্ছে না। ৩ নম্বর ঘাট সচল থাকলেও ২ ও ৪ নম্বর ঘাট জোড়াতালি দিয়ে আংশিক সচল রাখা হয়েছে। ১ ও ৫ নম্বর ঘাট পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে।
এ ব্যাপারে বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বরাদ্দ পেলে ঘাট সংস্কারকাজ পুরোপুরি শুরু করা হবে। আপাতত সাময়িকভাবে ৩ ও ৪ নম্বর ঘাট সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে।’
যানবাহনের চালকরা বলছেন, সব ঘাট সচল না থাকায় পারাপারে ভোগান্তি বেড়েছে। ফেরিতে ওঠানামায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ফেরি পার হতে ঘাট এলাকায় যানবাহনগুলোকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে।
ঘাটের সমস্যার কারণে ফেরিতে যানবাহন পারাপার বিলম্ব হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ। সংস্থাটির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) আবদুস সালাম বলেন, ‘ঘাটগুলো সচল না থাকায় আগের তুলনায় যানবাহন কমে গেছে। এতে সরকারের রাজস্ব আয়ও কম হচ্ছে। ফেরিঘাট রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের কাজ করে বিআইডব্লিউটিএ। দ্রুত ঘাট মেরামতের জন্য কয়েক দফায় চিঠি দেয়া হয়েছে বিআইডব্লিউটিএকে।’
পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া পথে যাত্রী অনেকটা কমেছে। পদ্মা সেতুতে বেড়েছে যানবাহনের চাপ। তবে ভোগান্তি বাড়িয়েছে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক। বরিশাল থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত সড়কের পিচ, পাথর সরে গিয়ে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। সড়কটিকে সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী করতে ইট ফেলে খানাখন্দ ভরাট করে ওপরে বালি ফেলা হচ্ছে। এরপর দেয়া হচ্ছে পিচের প্রলেপ।










