দীর্ঘদিন ওয়ার্কশপে ফেলে রাখার পর অবশেষে রেলের বিভিন্ন ট্রেনে যুক্ত হচ্ছে ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করা আধুনিক ব্রেক সিস্টেমের ৩৪টি কোচ। গতকাল মহানগর এক্সপ্রেসে ও ২৭ জুলাই থেকে চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনে যুক্ত হবে কোচগুলো। এতে দীর্ঘসময় চলাচলের পর সত্যিকারের আন্তঃনগর ট্রেনে রূপান্তর হচ্ছে ঢাকা-চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটের ট্রেন দুটি।
গত ৭ জুলাই ‘ওয়ার্কশপে ফেলে রেখে নষ্ট করা হচ্ছে রেলের আধুনিক ব্রেক পদ্ধতির ৩৪ কোচ’ শিরোনামে বণিক বার্তায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের পর রেলপথ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ রেলওয়েকে নির্দেশনা দেয়া হয়। ওয়ার্কশপে এক মাসেরও বেশি সময় ভালো কোচগুলো ফেলে রাখার বিষয়টি প্রমাণ পাওয়ার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার, চট্টগ্রাম-সিলেট ও ঢাকা-সিলেটসহ বিভিন্ন রুটের পুরনো ট্রেনগুলোয় সংযোজনের নির্দেশনা দেয় রেলভবনের অপারেশন বিভাগ। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল ১১ জুলাই থেকেই ওয়ার্কশপে ফেলে রাখা কোচের রেক সংযোজনের উদ্যোগ নেয় রেলের পরিচালন বিভাগ।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বাণিজ্যিক ও পরিবহন বিভাগ সূত্র বলছে, ইন্দোনেশিয়ান আধুনিক ব্রেক পদ্ধতির পিটি ইনকা কোম্পানি নির্মিত কোচগুলো কক্সবাজার স্পেশাল ট্রেনে সংযোজন করা হলে যাত্রী চাহিদার পাশাপাশি রাজস্ব আয় আরো বাড়বে। মূলত বর্তমান স্পেশাল ট্রেনের পিএইচটি টাইপ রেকে শোভন চেয়ার, প্রথম শ্রেণীর চেয়ার ও শোভন শ্রেণীর কোচ থাকায় যাত্রী পরিবহন বেশি হলেও আয়ের পরিমাণ কম। ইন্দোনেশিয়ান কোচের রেকটি সংযোজন করা হলে শোভন চেয়ারের পাশাপাশি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোচ, স্লিপার কোচ সংযোজন হলে স্বল্প দূরত্বের রুটটিতে (১৫০ কিলোমিটার) প্রায় দ্বিগুণ আয় করা সম্ভব।
জানতে চাইলে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রেলওয়ে সবসময় চায় যাত্রীসেবার মানকে ধারাবাহিকভাবে বাড়াতে। নতুন নতুন কোচ আসার পর পুরনো ট্রেনগুলোকেও আধুনিক করা হচ্ছে। চট্টলা, মহানগর এক্সপ্রেস ও মেইল ট্রেনগুলোয় নতুন কোচ যুক্ত করার মাধ্যমে যাত্রীসেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি রেলের রাজস্ব আয়েও বড় পরিবর্তন আসবে বলে মনে করি।’










