ট্রেন লেভেল ক্রসিং পেরোনোর আগ মুহূর্তেও চলে পথচারী ও যানবাহন পারাপার। ক্রসিংয়ে চারটি ডাবল ব্যারিয়ার থাকলেও নামানো হয় তিনটি। আর ক্রসিংটি স্টেশনের এতই কাছে, ট্রেন স্টেশন ছাড়লে সেখানে পৌঁছতে ১ মিনিটেরও কম সময় লাগে। তার পরও সুরক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য থাকা ব্যারিয়ারের সবকটি নামানো হয় না। ফলে খোলা পাশ দিয়ে হরহামেশা মোটরসাইকেল, রিকশা ও ইজিবাইক লেভেল ক্রসিংয়ে ঢুকে পড়ে। যশোর জংশনের পশ্চিম পাশের ‘রেলগেট’ ক্রসিংটির এমনই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা।

যশোর শহরের মুজিব সড়কের শেষ প্রান্তের নাম রেলগেট। ক্রসিংটির কারণে স্থানটির রেলগেট নামকরণও হয়েছে। লেভেল ক্রসিংটি একটি এলসি গেট (স্পেশাল লেভেল ক্রসিং)। ক্রসিংটি দিয়ে হাজার হাজার যানবাহন ও মানুষ পারাপার হয় প্রতিদিন। এখান দিয়ে কয়েকটি রুটের যাত্রী ও মালবাহীসহ ২০টিরও বেশি ট্রেন চলাচল করে। কিন্তু এত গুরুত্বপূর্ণ রেল ক্রসিংটি অরক্ষিত থাকে প্রায়ই সময়।

সরেজমিন দেখা যায়, ট্রেন চলাচলের সময় লেভেল ক্রসিংটিতে চারটি ব্যারিয়ারের তিনটি নামানো হয়। অনেক সময় নামানো হয় মাত্র দুটি। অন্য ব্যারিয়ার সবসময় ওঠানো থাকে। এগুলো কখনোই নামানো হয় না। ফলে ট্রেন লেভেল ক্রসিং পার হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পথচারী ও যানবাহন পারাপার চলে।

গত বছরের ১৩ নভেম্বর বেনাপোল থেকে খুলনাগামী বেতনা এক্সপ্রেস ট্রেন এ ক্রসিংয়ের কাছে এসে লাইনচ্যুত হয়।  রেলক্রসিংয়ের ওপর বগি আটকে থাকায় যশোর শহর ও চাঁচড়ার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, রেলের লেভেল ক্রসিং গেটগুলো ছয় শ্রেণীতে বিভক্ত।  যশোর জংশনসংলগ্ন  গেটটি ক্লাস-এ শ্রেণীভুক্ত। নিয়ম অনুযায়ী এ-শ্রেণীর গেটগুলোয় তিন শিফটে ছয়জন (প্রতি শিফটে দুজন করে) গেটকিপার নিয়োজিত থাকার কথা। কিন্ত এখানে তিন শিফটে দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন একজন করে।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে কর্তব্যরতরা জানান, অপারেশন ম্যানুয়াল অনুযায়ী ক্রসিংয়ের উভয় পাশে দুটি করে মোট চারটি ব্যারিয়ার নামানোর নিয়ম রয়েছে। কিন্তু নামানো হয় তিনটি। ফলে ট্রেন লেভেল ক্রসিং পার হওয়ায় সময় ও আগ মুহূর্তেও থাকে অরক্ষিত। তাদের দাবি, চারটি ব্যারিয়ারের সবক’টি নামাতে হলে স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী প্রতি শিফটে দুজন করে মোট ছয়জন গেটকিপার থাকার কথা। কিন্তু বর্তমান একেক শিফটে একজন করে দায়িত্ব পালন করেন। আর তাই চাইলেও একজনের পক্ষে চারটি ব্যারিয়ারের সবকটি ওঠানো-নামানো সম্ভব হয় না। প্রতিদিনই বিভিন্ন রুটের আন্তঃনগর ও লোকাল ট্রেন যশোর স্টেশনে যাতায়াত করে। যশোরের বিভিন্ন প্রান্তসহ বাইরে জেলার বিপুলসংখ্যক মানুষ চাঁচড়া চেকপোস্টে বাস থেকে নেমে রেলগেট দিয়ে শহরে যান। ক্রসিংটি দিয়ে সবসময় চাপ থাকে শহর অভিমুখী মানুষের। নিয়মানুযায়ী ব্যারিয়ার নামানো হয় না বলে ক্রসিংটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

যশোর রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী ওয়ালিউল হক জানান, রেলগেট এলাকার ওই লেভেল ক্রসিংয়ের ট্রাফিক কন্ট্রোলের দায়িত্ব মূলত স্টেশন মাস্টারের। কোনো ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটির ব্যাপার থাকলে সেটি মেরামতের দিকটি তার বিভাগের আওতার মধ্যে পড়ে।

স্টেশন মাস্টার আয়নাল হোসেন জানান, গেটটিতে তিন শিফটে তিনজন দায়িত্ব পালন করেন। তাদের একার পক্ষে সবকটি ব্যারিয়ার নামানো সম্ভব হয় না। সবকটি ব্যারিয়ার একসঙ্গে নামাতে হলে দুজন গেটকিপার দরকার। কিন্তু একেকটি শিফটে কাজ করেন মাত্র একজন। তিনি বলেন, লোকবল বাড়ানোর বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানিয়েছেন। কিন্তু সুরাহা হয়নি।