ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের ভবনটি বেশ পুরনো। দেয়াল ও ছাদে ফাটল ধরেছে। অধিকাংশ স্থানে খসে পড়েছে পলেস্তারা। বেরিয়ে গেছে রড। সামান্য বৃষ্টিতেই ছাদ চুইয়ে পড়ছে পানি। ভেঙে গেছে দরজা-জানালা। গ্রিলগুলোতে মরিচা ধরেছে। এমন অবস্থার মধ্য দিয়ে চলছে ভূমি সেবা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুরনো ভবনের পাশেই ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে নতুন ভবন। তবে দীর্ঘদিনেও তা হস্তান্তর করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এখনো বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয়নি। শেষ হয়নি পানি সঞ্চালন, টয়লেট নির্মাণকাজ। বাদ রয়েছে রঙের কাজও। কর্মকর্তাদের রুমে শুধু কয়েকটা টেবিল আর হাতলওয়ালা চেয়ার ছাড়া ব্যবহারের জন্য অন্য কোনো আসবাবপত্র দেয়া হয়নি।

এ ব্যাপারে ঠিকাদার শামীম হোসেন বলেন, ‘নতুন ভবন নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। শুধু পানি সঞ্চালন লাইনের কিছু কাজ বাকি রয়েছে। দ্রুতই ভবনটি হস্তান্তর করা হবে।’

একদিকে জীর্ণ ভবন, অন্যদিকে সেবা নিতে আসা মানুষের দীর্ঘ লাইন। এভাবেই প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আর সেবা নিতে এসে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন থেকে ফিরে যাচ্ছেন অনেকে।

সেবাপ্রত্যাশীরা বলছেন ভয় নিয়ে জমি রেজিস্ট্রির কাজ করতে আসেন তারা। বৃষ্টি হলে ছাদ থেকে পানি পড়ে। ভবন ভাঙার ভয় তো আছেই। সরকার কোটি টাকা খরচ করে নতুন ভবন নির্মাণ করলেও দুর্ভোগ কমেনি।

সেবা নিতে আসা বকশীপুর গ্রামের রহিম আলী বলেন, ‘পুরনো ভবনে জায়গা কম। যেকোনো সময় ভেঙে পড়ার ভয়ও রয়েছে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতেও কষ্ট হয়।’

দামুকদিয়া গ্রামের মাসুদ মোল্লা বলেন, ‘সরকার এত টাকা দিয়ে নতুন ভবন নির্মাণ করলেও এখনো চালু হয়নি। দিন দিন দুর্ভোগ বাড়ছে আমাদের।’

সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের কর্মকর্তারা বলছেন, ফাইল রাখার জায়গা নেই। পুরনো আসবাবপত্রগুলো ভাঙা। লোডশেডিং হলে জেনারেটরের ব্যবস্থা নেই। বৃষ্টির পানি পড়ে সব ফাইল ভিজে যায়। এ অবস্থায় মানুষকে সেবা দেয়া যেন যুদ্ধের মতো।

উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের কর্মকর্তা সোনালী খানম বলেন, ‘মাঝেমধ্যেই ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। তাতে আতঙ্কে থাকতে হয় প্রতি মুহূর্তে। একাধিকবার গণপূর্ত বিভাগকে জানিয়েছি, তবে এখনো নতুন ভবনে ওঠার অনুমতি মেলেনি। এমন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বসে সেবা দেয়া কষ্টদায়ক।’