পুরনো বছরকে পেছনে ফেলে আনন্দ-উল্লাস, আতশবাজি ও নানা উৎসবের মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়েছে বিশ্ববাসী। কালপঞ্জির স্বাভাবিক নিয়মেই মহাকালের গর্ভে বিলীন হলো আরো একটি বছর। বুধবার রাত গড়িয়ে বৃহস্পতিবার শুরু হতেই বিদায় নিতে শুরু করল বিদায়ী বছর ২০২৫। নতুন বছর ২০২৬ সালের প্রাক্কালে শান্তি, নিরাপত্তা ও ভালো দিনের আশায় মুখর হলো বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত। এদিনই ঘটল মর্মান্তিক এক ঘটনা। সুইজারল্যান্ডের একটি বিলাসবহুল স্কি রিসোর্টে নববর্ষ উদযাপনকালে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো শতাধিক মানুষ। তাদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ক্র্যানস-মনটানা রিসোর্টের ‘লে কনস্টেলেন’ নামে একটি বারে এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সময় বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বারের ভেতরে আগুনের সূত্রপাত হয়।

তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তথ্যানুযায়ী, বারের বেসমেন্টে একটি বোতলের ওপর লাগানো জন্মদিনের মোমবাতি কাঠের ছাদের খুব কাছাকাছি ছিল। সেখান থেকেই ছাদে আগুন ধরে যায় এবং পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ভবনের সরু সিঁড়ি দিয়ে বের হতে গিয়ে অনেকেই আটকা পড়েন।

দুর্ঘটনার পর ক্র্যানস-মনটানা এলাকায় আকাশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। আহতদের উদ্ধারে ১০টি হেলিকপ্টার ও ৪০টি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করা হয়েছে। দগ্ধদের জায়ন, লুসান, জেনেভা ও জুরিখের বিশেষায়িত হাসপাতালে পাঠানো হয়। স্বজনদের তথ্য জানাতে একটি হেল্পলাইন চালু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

এদিকে সবচেয়ে আগে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয় প্রশান্ত মহাসাগরের আন্তর্জাতিক তারিখ রেখার কাছের দ্বীপগুলোয়। কিরিতিমাতি (ক্রিসমাস আইল্যান্ড), টোঙ্গা ও নিউজিল্যান্ডে মধ্যরাত নামতেই শুরু হয় নতুন বছরের উদযাপন।

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বরাবরের মতোই জাঁকজমকপূর্ণ আতশবাজির মধ্য দিয়ে ২০২৬ সালকে স্বাগত জানানো হয়েছে। সিডনি হারবার ও হারবার ব্রিজের ৭ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ৪০ হাজারেরও বেশি আতশবাজি আকাশকে বর্ণিল করে তোলে। তবে এবারের উৎসব ছিল কিছুটা বিষাদময়। কয়েক সপ্তাহ আগে সিডনিতে একটি ইহুদি অনুষ্ঠানে বন্দুকধারীদের হামলায় ১৫ জন নিহতের ঘটনায় সেখানে নিরাপত্তা ছিল অত্যন্ত কড়াকড়ি। নিহতদের স্মরণে রাত ১১টায় ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং হারবার ব্রিজের গায়ে ইহুদিদের প্রতীক ‘মেনোরাহ’ প্রজেকশন করা হয়। সিডনির লর্ড মেয়র ক্লোভার মুর বলেন, ‘একটি বিয়োগান্ত ঘটনার পর এ উৎসব যেন সবার মাঝে শান্তি ও ঐক্য ফিরিয়ে আনে।’

দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিলেন বোসিংগাক বেল প্যাভিলিয়নে। বৌদ্ধ ঐতিহ্য অনুযায়ী সেখানে রাত ১২টায় ব্রোঞ্জ নির্মিত ঘণ্টাটি ৩৩ বার বাজানো হয়, যা আগামী বছরের শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। বেইজিংয়ের বাইরে চীনের মহাপ্রাচীরের জুয়ং পাস এলাকায় ড্রাম বাজিয়ে উৎসব উদযাপন করা হয়েছে। উৎসবে অংশগ্রহণকারীরা ‘২০২৬’ লেখা টুপি ও ফেস্টুন হাতে ঘোড়ার প্রতীক নিয়ে নেচে-গেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন।

ক্রোয়েশিয়া, ব্রাজিল, ইউক্রেনসহ বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই আনন্দ উদ্দীপনায় নতুন বছরকে বরণ করে নেয়া হয়।