বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে আঞ্চলিক উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা (ভ্যালু চেইন) আরো শক্তিশালী করার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদি। সোমবার (৩ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স, বাংলাদেশের (আইসিসিবি) সঙ্গে এক বৈঠকে এ কথা বলেন ভারতীয় হাইকমিশনার।

তিনি বলেছেন, ভ্যালু চেইন শক্তিশালী হলে এর মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

বৈঠকে আইসিসিবির সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগাতে বেসরকারি খাতের আরো সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

আইসিসিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় পণ্য বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১১ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ ভারতে ১ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করেছে এবং ভারত থেকে আমদানি করেছে ৯ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।

বৈঠকে মাহবুবুর রহমান দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বাংলাদেশের পণ্যের জন্য ভারতের বাজারে আরো সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা, অশুল্ক বাধা দূর করা, পণ্যের মানদণ্ডে সমন্বয়, শুল্ক ও কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং প্রস্তাবিত কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, বিনিয়োগ, আঞ্চলিক মূল্য শৃঙ্খল, বহুমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সীমান্তবর্তী বিদ্যুৎ বাণিজ্য, ডিজিটাল বাণিজ্য, ফিনটেক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জলবায়ু অর্থায়ন, টেকসই শিল্পায়ন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

আইসিসিবির সভাপতি আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াতে সার্ককে আরো কার্যকর করা, বাংলাদেশ-ভুটান-ভারত-নেপাল (বিবিআইএন) মোটর ভেহিকলস অ্যাগ্রিমেন্ট দ্রুত বাস্তবায়ন এবং বিমসটেকের আওতায় সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেন। এর মাধ্যমে আঞ্চলিক যোগাযোগ উন্নয়ন, পণ্য পরিবহন ব্যয় হ্রাস এবং সরবরাহ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দিনেশ ত্রিবেদি বলেন, উদ্ভাবন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং দক্ষ মানবসম্পদে দুই দেশের উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা রয়েছে। এসব সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরো বাড়ানো এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বেসরকারি খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

হাইকমিশনার আরো জানান, সীমান্তবর্তী এলাকায় বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে আঞ্চলিক উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী হবে এবং নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তিনি ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে কোনো সমস্যা হলে তারা ভারতীয় হাইকমিশনের সহযোগিতা নিতে পারেন।

বৈঠকে আইসিসিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট নাসির এজাজ বিজয় দু’দেশের ব্যবসায়ীদের যাতায়াত সহজ করতে বাণিজ্যিক ভিসা প্রক্রিয়া আরো সহজ ও দ্রুত করার আহ্বান জানান।

আইসিসিবির নির্বাহী বোর্ড সদস্য সিমিন রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য, ব্যবসা, স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা ও পর্যটন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। ভারতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তুললে দু’দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হবে।

বৈঠকে আইসিসি বাংলাদেশের এক্সিকিউটিভ বোর্ড সদস্য তপন চৌধুরী, বাংলাদেশে ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার পাওয়ান কুমার বঢ়ে, ভারতীয় হাইকমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি (অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য) গৌরব কুমার আগারওয়াল, আইসিসি বাংলাদেশের সেক্রেটারি জেনারেল আতাউর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।