সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই হাকিমকে জেরা করবে আসামিপক্ষ। আজ রোববার সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরাফ উদ্দিন ও মো. জাকির হোসাইনকে জেরা করবেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে নুসরাতের মরদেহের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণের সময় শনাক্তকারী হিসেবে ঢাকার শাহবাগ থানার পুলিশ কনস্টেবল রমজান আলী ও একই থানার এসআই সামছুর রহমান, পিবিআইয়ের ফেনী শাখার এএসআই মো. সজীব হোসেন, এএসআই বিল্লাল হোসেন ও কনস্টেবল আলমগীর হোসেন সাক্ষ্য দেন। গত বুধবার

সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসেন এ মামলায় সাক্ষ্য দেন। আজ রোববার ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শরাফ উদ্দিন ও বিচারক জাকির হোসাইনকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জেরা করবেন বলে জানা গেছে।

আসামিপক্ষের আইনজীবীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ দুই বিচারিক হাকিমকে একসঙ্গে জেরা করার দিন ধার্য করেন বিচারক মামুনুর রশিদ। তাই আজ অন্য কোনো সাক্ষী রাখা হয়নি বলে আদালতের একটি সূত্র গণমাধ্যমকে জানিয়েছে।

এ মামলায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১২ জন আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে ম্যাজিস্ট্রেটদের কাছে জবানবন্দি দিয়েছেন। ওই জবানবন্দি বিচারকের দায়িত্বে থাকা শরাফ উদ্দিন ও মো. জাকির হোসাইন রেকর্ড করেন। সেজন্য দুই হাকিমকে ওই মামলায় সাক্ষী করা হয়।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ৬ এপ্রিল ওই মাদ্রাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। টানা পাঁচদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত জাহান রাফি।