টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে হলুদের চাষ হয়ে আসছে। হলুদ চাষের মাধ্যমে সাবলম্বী হয়েছেন বহু কৃষক। এ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা যুগ যুগ ধরে হলুদ চাষের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এর মধ্যে কাকড়াজান ইউনিয়নের জিতাশ্বরী, মহানন্দপুর, দেবলচালা, নয়ারচালা, গড়বাড়ী, তৈলাধারা, হারিঙ্গাচালা, বাশারচালা, বাঘেরবাড়ী, দিঘীরচালা, বৈলারপুর, মরিচকুরিচালা, সাপিয়াচালা, হামিদপুর, ইন্দারজানী, খুংগাইরচালা, ভাতগড়া আদানি, বামনচালা, ভুয়াইদ গ্রামের কৃষকদের মধ্যে হলুদ চাষের প্রবণতা তুলনামূলক বেশী। এছাড়াও উপজেলার হাতীবান্ধা ইউনিয়নের হতেয়া রাজাবাড়ি গ্রামে, কামালিয়াচালা গ্রামে ও রতনপুর কাশেমবাজার এলাকার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা হলুদ চাষ করেন। 

বর্তমানে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে উন্নত ফলন পাওয়ায় এবং হলুদ গাছের সুরক্ষার জন্য বৈজ্ঞানিক কৃষি পদ্ধতি অবলম্বন করায় আগের চেয়ে অনেক বেশি লাভজনক হয়েছে এ মশলাটির চাষ। আবার যোগোযোগের উন্নতির কারণে হলুদ বেচাকেনাও এখন অনেক সহজ। সাধারণত হলুদ পাইকারী বেচাকেনা হয় জিতাশ্বরী বাজার, দিঘীরচালা বাজার, বড়চওনা বাজারসহ বেশ কয়েকটি এলাকায়। কৃষকরাই এসব বাজারে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পাইকারদের কাছে হলুদ বিক্রি করে থাকেন। 

নয়ারচালা গ্রামের হলুদ চাষী মো. দেলোয়ার হোসেন, মহানন্দপুর গ্রামের কৃষক মো. মোবারক হোসেন,  গড়বাড়ী গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা হলুদ চাষী নাঈমুল ইসলামসহ কথা হয় স্থানীয় চাষীদের সঙ্গে। প্রায় সবাই জানালেন হলুদ চাষে লাভবান হওয়ার কথা। কেউ ১৭ শতাংশ জমিতে ৩ মণ হলুদ রোপন করে ২৪ মণ ফলন পেয়েছেন, কেউ ৫ মণ রোপণ করে পেয়েছেন ৯০ মণ হলুদ। স্থানীয় বাজারে কাঁচা হলুদ পাইকারী দরে ১১০০ টাকা মণ হিসেবে বিক্রি হয়। এদে খরচ বাদ দিলেও বেশ ভালো পরিমাণে লাভ থাকে তাদের। 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নিয়ন্তা বর্মন বলেন, সখীপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের হলুদ চাষীরা ৩৯০ হেক্টর জমিতে হলুদ চাষ করছে। বিভিন্ন কৃষি প্রকল্পের মাধ্যমে উন্নত জাতের হলুদের প্রদর্শনী এবং হলুদ চাষীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। এতে করে কৃষকরা হলুদ চাষাবাদে ভালো অবদান রাখতে পারবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও কৃষকরা স্বচ্ছলতা অর্জন করছেন।