২০তম ওভারে আকিল হোসেনের শেষ দুই ডেলিভারিতে পরপর দুটি চার মেরে স্কোর লেভেল করেন লিটন দাস। তখন তামিম ইকবালের হাফসেঞ্চুরি করতে প্রয়োজন ৪ রান। ২১তম ওভারে স্ট্রাইক পেয়ে অর্ধশতক করার সুযোগটা নিতে চাইলেন এ ওপেনার। প্রথম তিন বলে বাউন্ডারি না পেলেও চতুর্থ বলে লং অফে চার মেরে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ৫৩তম হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন তামিম। জয়সুচক রানের সঙ্গে ম্যাচ জয়, সিরিজ জয়, সঙ্গে নিজের অর্ধশতক; এমন মধুর আত্মতৃপ্তি নিয়েই গায়ানার প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামের মাঠ থেকে ওঠেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

গতকাল সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৯ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ (১১২/১)। স্বাগতিকদের দেয়া ১০৯ রানের লক্ষ্যে ১৭৬ বল হাতে রেখেই পৌঁছে যায় সফরকারীরা। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জিতে নিল বাংলাদেশ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে এ নিয়ে টানা চারটি ওয়ানডে সিরিজে পরাজিত করল বাংলাদেশ। দুই দল ১১তম দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ খেলছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ জিতল ছয়টি সিরিজ, ওয়েস্ট ইন্ডিজ পাঁচটি। এতদিন পাঁচটি সিরিজ জিতে সম-অবস্থানে ছিল দুই দল। এবার নিজেদের পাল্লা একটু ভারী হলো টাইগারদের। বাংলাদেশ ছয়টি সিরিজের মধ্যে তিনটিই জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে, তিনটি ঘরের মাটিতে। ২০০৯ সালে সাকিবের নেতৃত্বে, ২০১৮ সালে মাশরাফি এবং ২০২২ সালে তামিমের নেতৃত্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জয় করে বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে এটি বাংলাদেশের ৩১তম ওডিআই সিরিজ জয়।

শুধু তা-ই নয়, ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে এ নিয়ে টানা ১০টি ওয়ানডে ম্যাচ জেতারও কীর্তি গড়ল বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এমন রেকর্ড গড়েছে দলটি। উইন্ডিজের বিপক্ষে সব মিলিয়ে ২০তম ওয়ানডে ম্যাচ জিতল বাংলাদেশ। এর চেয়ে বেশি, অর্থাৎ ৫০টি ওয়ানডে ম্যাচ জয়ের রেকর্ড আছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।

প্রথম ম্যাচে তামিমের সঙ্গী ছিলেন লিটন দাস। এ ম্যাচে ওপেনিংয়ে নামানো হয় নাজমুল হোসেন শান্তকে। ছোট লক্ষ্যে দুজনে মিলে ওপেনিং জুটিতে তোলেন ৪৮ রান। অর্থডক্স স্পিনার মোটির বলে শান্ত কাউ কর্নারে আকিল হোসেনের তালুবন্দি হলে ভাঙে জুটি। ৩৬ বলে ২০ রান করেন তিনি। এরপর আর কোনো বিপদ গড়তে দেননি তামিম-লিটন। ৬৪ রানের জুটিতে দলকে নিয়ে যান জয়ের বন্দরে। ৬২ বলে ৭টি চারে ৫০ রান করেন তামিম। ২৭ বলে ৬টি বাউন্ডারিতে ৩২ রান করেন ওয়ানডাউনে নামা লিটন।

ব্যাটাররা ভালো ফর্মে নেই। তবে বাংলাদেশের বোলিং ইউনিট ভালোই শক্তিমত্তা দেখিয়ে যাচ্ছে। তাই দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও টস জিতে কোনো রিস্ক না নিয়ে প্রথমে বোলিংই বেছে নেন তামিম ইকবাল।

বল হাতে পেয়ে শুরু থেকেই স্বাগতিক ব্যাটারদের চেপে ধরেন বাংলাদেশের বোলাররা। মিরাজ-নাসুমদের স্পিন বিষে কুপোকাত হয় ক্যারিবিয়ানদের ব্যাটিং লাইনআপ। ৩৫ ওভারে মাত্র ১০৮ রানে অলআউট হয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আগের ম্যাচে ওয়ানডেতে অভিষেক হয়েছিল অর্থডক্স স্পিনার নাসুম আহমেদের। ৮ ওভার বোলিং করে ১৬ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য। এ ম্যাচে নাসুম ছিলেন বাংলাদেশের জয়ের নায়ক। ১০ ওভার বোলিং করে ১.৯০ ইকোনমিতে ১৯ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩টি উইকেট। এর মধ্যে চার ওভার ছিল মেডেন। তাই ম্যাচসেরাও হয়েছেন তিনি। এ সিলেটী স্পিনারের মূল্যবান তিন শিকার হলেন ওপেনার শাই হোপ (১৮), শামার ব্রুকস (৫) ও নিকোলাস পুরান (০)। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ধারাবাহিক ভালো বোলিং করা মেহেদী হাসান মিরাজও ছিলেন দুর্দান্ত। ৮ ওভার বোলিং করে ২৯ রানের বিনিময়ে নিয়েছেন ৪ উইকেট।

উইন্ডিজের ছয় ব্যাটার দুই অংকের ঘরেই যেতে পারেননি। সর্বোচ্চ অপরাজিত ২৫ রান করেছেন লোয়ার অর্ডারে রাসা কিমো পল। মূলত তার ব্যাটেই ১০০ ছাড়িয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কাইল মায়ার্সের ব্যাট থেকে আসে ১৭ রান। স্বাগতিকদের আটটি উইকেটই নেন বাংলাদেশের স্পিনাররা। নাসুম-মিরাজ মিলে সাতটি, মোসাদ্দেক হোসেন ও শরিফুল ইসলাম একটি করে উইকেট নেন। আকিল হোসেন (২) ফেরেন রানআউট হয়ে।

কন্ডিশন বুঝে বাংলাদেশের একাদশেও ছিল একটি পরিবর্তন। পেসার তাসকিন আহমেদকে বসিয়ে একাদশে নেয়া হয় একজন বাড়তি স্পিন অলরাউন্ডারকে (মোসাদ্দেক)।

আগামী শনিবার একই ভেন্যুতে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।