ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিকে কেন্দ্র করে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) সংঘর্ষের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি সময় বাড়িয়েও প্রতিবেদন দিতে পারেনি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কমিটির জন্য নির্ধারিত তিন কার্যদিবস শেষ হয় ২৪ ফেব্রুয়ারি। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে ৭ কর্মদিবস সময় বাড়ানোর জন্য প্রশাসন বরাবর আবেদন করে তদন্ত কমিটি। সেই বর্ধিত সময়ের শেষ দিন ছিল ৫ মার্চ।
কমিটির দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎকার নেয়া যাচ্ছে না। তাই প্রতিবেদন দিতে পারছেন না তারা। কবে নাগাদ প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে, সেটিও তারা জানাননি।
কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক এম এম এ হাসেম বলেন, ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী নেই। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা চলে গেছেন। এর জন্য সময় লাগবে। শিক্ষার্থীদের সাক্ষাৎকার না নিতে পারলে আমরা প্রতিবেদন চূড়ান্ত করতে পারছি না। তবে আমাদের কাজ চলছে। ঘটনার অংশীজনদের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে আমরা যাচাই করার চেষ্টা করছি।
কবে নাগাদ তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া যাবে জানতে চাইলে অধ্যাপক হাসেম বলেন, আমরা এরই মধ্যে সময় লাগবে জানিয়ে আবেদন করেছি। এখন তো বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। দেখা যাক কর্তৃপক্ষ বা সিন্ডিকেট কত দিন সময় দেয়।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও তদন্ত কমিটি সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি কুয়েটে ঘটে যাওয়া সংঘর্ষের ঘটনায় প্রকৃত দোষী শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করাসহ পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য ১৯ ফেব্রুয়ারি সিন্ডিকেটের সভায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এম এম এ হাসেমকে প্রধান করে চার সদস্যের কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।
ওই কমিটির সদস্যসচিব বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরিচালক (ছাত্র কল্যাণ) শাহ মুহাম্মদ আজমত উল্লাহ। সদস্য হিসেবে আছেন শহীদ স্মৃতি হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু ইউসুফ ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক আবু জাকির মোর্শেদ।
এদিকে উপাচার্যের পদত্যাগসহ ছয় দফা দাবিতে তদন্ত কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তারা এই কমিটির তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে সিন্ডিকেট সভার কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন ‘কুয়েট ১৯’ নামে একটি ফেসবুক পেজ থেকে। গত ১ মার্চ রাতে পোস্ট করা ওই বিজ্ঞপ্তির শিরোনাম দেয়া হয়েছে— ‘প্রহসনমূলক তদন্ত কমিটি নিয়ে কুয়েটের শিক্ষার্থীবৃন্দের স্পষ্ট অবস্থান’। এতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের বর্জন করা উপাচার্যের নিয়োগ করা তদন্ত কমিটিকে তারা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, প্রহসনমূলক তদন্ত কমিটি আমরা ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচারের আমলে দেখতে পেয়েছিলাম, যেগুলোর মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে আন্দোলনকে নস্যাৎ করা। ফ্যাসিবাদী কায়দায় গঠিত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, প্রহসনমূলক তদন্ত কমিটিকে আমরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি এবং তদন্ত কমিটি দ্বারা প্রকাশিত কোনো রিপোর্ট কিংবা আদেশ এবং এই তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে সিন্ডিকেট মিটিংয়ের কোনো সিদ্ধান্ত আমরা কুয়েটের পাঁচ ব্যাচের কোনো শিক্ষার্থী কখনোই মেনে নেব না।
ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবিকে কেন্দ্র করে ১৮ ফেব্রুয়ারি ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়; এতে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন।
ঘটনার পরদিন বুধবার সন্ধ্যায় খানজাহান আলী থানায় অজ্ঞাত পরিচয় ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করে মামলা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সংঘর্ষের দিন পাঁচজনকে আটক করে পুলিশে দেয় সেনাবাহিনী। তাদের প্রিজন সেলে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। তাদের মধ্যে চারজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
২৫ ফেব্রুয়ারি অনির্দিষ্টকালের জন্য কুয়েটের সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। হল ছাড়ার নির্দেশনা দেয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীদের।










